সত্যি কোথায় শেষ আর আতঙ্ক কোথায় আরম্ভ, বিচার করুন ভিডিও দেখে

১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিলিজ করে রুজ্জেরো দিওদাতো পরিচালিত ছবি ‘ক্যনিবল হলোকাস্ট’। চেনা হরর-অ্যাডভেঞ্চার ছবির ছককে ভেঙে-চুরে তছনছ করে দেয় এই ছবি। প্রায়োগিক দিক থেকে ‘ক্যানিবল হলোকাস্ট’ মোটেই আহামরি কিছু ছবি ছিল না। আজকের দৃষ্টিতে দেখলে তাকে ‘বি-মুভি’ বলেই মনে হবে। কিন্তু, এই ছবিই ভবিষ্যতের একটা বিশেষ জ্যঁরকে নির্ধারণ করে দেয়।

‘ফাউন্ড ফুটেজ’— এই টার্মটার সঙ্গে আজকের ফিল্ম বাফদের নতুন করে পরিচয় করানোর কিছু নেই। এটা একেবারেই একটা ভাণ-সর্বস্ব জ্যঁর। এই জ্যঁরের ছবি এমনভাবে নির্মিত হয়, যেন ছবিটি কোনও হারিয়ে পাওয়া ফুটেজ। তা চালাতেই দেখা যায় ভয়ানক রহস্যময় কিছু ঘটেছে এই ফুটেজের চরিত্রদের সঙ্গে। এবং শেষ পর্যন্ত তারা সকলেই মারা যায়। ১৯৮০-র ‘ক্যানিবল হলোকাস্ট’-এর কাহিনিতে এক তথ্যচিত্র নির্মাতা দল আমাজনের অজানা অরণ্যে নরমাংস ভক্ষক এক উপজাতির কবলে পড়ে। তাদেরই তোলা ফুটেজ পরে এক উদ্ধারকারী বাহিনী খুঁজে পায়। সেই ফুটেজটিকেই ‘সিনেমা’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে— এমন একটা ভাণ রাখা হয়।

ফিল্ম উইদিন ফিল্ম বা সিনেমার ব্যাপারটা অনেক আগেই চালু হয়েছিল। সত্যজিৎ রায় ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে ‘বিষবৃক্ষ’-এর কাল্পনিক ক্লিপ দেখিয়েছিলেন ১৯৬৭ সালে। হলিউডে ব্যাপারটা জলভাত হয়েই দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু, ১৯৮০-র এই ছবি সেই কায়দাকে পিছনে ফেলে দেয়।

কিন্তু এর পরে ফাউন্ড ফুটেজ বেশ কিছুদিন অদৃশ্য ছিল। জাপান বা অন্যত্র দু’একটা এমন ছবি তৈরি হলেও, হলিউড তেমন মাথা ঘামায়নি বিষয়টা নিয়ে। ১৯৮৯-এ আরও একটা ছদ্ম ডকুমেন্টরি ‘৮৪সি মোপিক’ তেলা হয় ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে। তবে আসল ঘটনা ঘটতে শুরু করে ১৯৯০-এর দশকে। হরর ছবি-কর্তারা ফাউন্ড ফুটেজ-এই খুঁজে পান তাঁদের মোক্ষ। একুশ শতকে এটাই হয়ে দাঁড়ায় হরর ছবির ‘মূলধারা’।

কেন এই কায়দাকেই দুরস্ত করলেন হরর-ওয়ালারা? উত্তর একটাই— অতিবাস্তবকে ‘সত্যি’-র মোড়ক দিতে এই জ্যঁরের কোনও বিকল্প নেই। এর জ্বলন্ত প্রমাণ ‘প্যারানর্মাল অ্যাক্টিভিটি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই ছবির মোদ্দা ইউএসপি এর ‘স্বাভাবিকত্ব’। নর্মালকে প্যারানর্মাল করে তোলার জন্য বিশেষ কসরত করতেই হয় না এমন ছবিতে। ‘প্যারানর্মাল অ্যাক্টিভিটি’ ছবিগুলিকেই দেখুন, টেরই পাবেন না, কতটা কায়দা করে নির্মিত এগুলি।

স্বাভাবিকতাকে তৈরি করেন পরিচালকরা। একইভাবে উল্লেখ করা যায়, ‘আরইসি’ (২০০৭), ‘আ সার্বিয়ান ফিল্ম’ (২০১০), ‘আনডকুমেন্টেড’ (২০১০), ‘দ্য টানেল’ (২০১১) ইত্যাদির কথা।

দেখে নিন কয়েকটি ফাউন্ড ফুটেজ ছবির ট্রেলার। এবং আপনিই বিচার করুন, ‘সত্যি’ তোথায় শেষ হয় আর কোথায় আরম্ভ হয় আতঙ্ক…

• ‘লেক মাঙ্গো’:

• ‘আরইসি’:

• ‘দ্য টানেল’:

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৯ ঘণ্টা, ০৯ জানুয়ারি ২০১৭
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসডিএম

শেয়ার করুন