৯০০ প্রার্থীর তালিকা খালেদা জিয়ার হাতে

এবার আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করতে চায় না বিএনপি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চিন্তা করছেন দলের নেতারা। আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। প্রার্থী হতে আগ্রহীরা লবিং শুরু করেছেন। ৩০০ আসনের প্রতিটিতে তিন জন করে খসড়া প্রার্থী তালিকা রয়েছে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে। অনেক আসনে ৩ জনের অধিক প্রার্থীর নামও রয়েছে। বিএনপি এখন ৯ শতাধিক প্রার্থীর তালিকা নিয়ে কাজ শুরু করবে।

ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে আন্দোলন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির বার্তা নিয়ে সারাদেশে কর্মিসভা প্রায় শেষ করেছেন দলের ৫১টি সাংগঠনিক টিম। ওই ৫১টি টিমের প্রতিবেদন প্রস্তুত হচ্ছে এখন। ওই প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনার পর ৩০০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা করা হবে বলে জানা গেছে।
দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, নির্বাচনে যাবে বিএনপি। তবে এজন্য একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ থাকতে হবে। নির্বাচনের মাঠ সমতল হতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ছাড় না দিলে বিএনপি কি করবে সে পরিকল্পনাও তৈরি আছে।

বিএনপির দুই সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান একাধিক আলোচনা সভায় বলেছেন, সরকারকে ফাঁকা মাঠে আর ছাড়া হবে না। আগামী নির্বাচনে বিএনপি যাবে, বর্জন করবে না। তবে সে নির্বাচন হতে হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে এবং সহায়ক সরকারের অধীনে। তারা বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে যাতে সরকার নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার দিতে বাধ্য হবে।
কেন বিএনপি নির্বাচন বর্জন করবে না-তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, মানুষ এখন বর্তমান সরকারের পরিবর্তন চায়, সে জন্য বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এই পরিবর্তন আনবে। নির্বাচন করতে হবে এ জন্য যে, বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে অনির্বাচিত এই সরকার জবাবদিহিহীনভাবে শাসন করছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এই সরকারকে আর সহ্য করতে পারছে না। খালেদা জিয়া ঘোষিত রূপকল্প ২০৩০ এর মাধ্যমে দেশের মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। আমরা এটাতে কমিটেড। আমরা ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাব। জনগণ সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছে।

তিনি বলেন, আন্দোলন করব এজন্য যে, একটি সরকার নির্বাচনকালীন সময়ে থাকতে হবে যাদের রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না। যাতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যার যার ভোট যাকে খুশি তাকে দিতে পারে। যদি সরকার এটা নিয়ে সমঝোতায় না আসেন, তাহলে এমন আন্দোলন করবো যাতে সরকার বাধ্য হয়। দেশে একদলীয় নির্বাচন আর হবে না। আমরা নির্বাচন করব এবং আন্দোলন করব।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতবার একতরফা নির্বাচন করতে পারলেও এবার বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সহজ হবে না। তিনি বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনে বিএনপির ৯০০ প্রার্থীর খসড়া তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির তিন-চারজন করে প্রার্থী আছেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ সম্পর্কে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে। বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন হবে না। সারাদেশেই আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, তিনশ আসনের প্রার্থী তালিকার বেশিরভাগই চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার খসড়া তালিকায় আছেন। বড়জোর ২০ থেকে ২৫ আসনের প্রার্থী তালিকা বাকি থাকতে পারে। নির্বাচনের আগেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি ম্যাডামের সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারবে। কাকে, কোথায় মনোনয়ন দেবেন, সে বিষয়ে খালেদা জিয়ার স্পষ্ট ধারণা আছে।

এদিকে একটি সূত্রে জানাগেছে, বেগম খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে সিলেট, ফেনী ও বগুড়া থেকে অংশ নিতে পারেন। গত মঙ্গলবার গুলশান কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এবিষয়টি আসনগুলোতে আগাম জানিয়ে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। যাতে তারা প্রচারণার প্রস্তুতি নিতে পারেন। সিলেট থেকে বেগম জিয়ার নির্বাচন করার খবরে ওই এলাকার নেতাকর্মীদের মাঝে উত্সাহের সৃষ্টি করেছে। খবর ইত্তেফাক।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৫ ঘণ্টা, ১৯ মে ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি

শেয়ার করুন