মরে গেছে, মারা যেতেই পারে, বললেন কল্যাণের আইনজীবী

কল্যাণের আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক। ছবি : সংগৃহীত

দৈনিক প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জিয়া ইসলামকে আহত করার মামলার আসামি অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়ার আইনজীবী জামিন শুনানিতে বলেন, ‘মানুষ মরে গেছে, মারা যেতেই পারে।’

আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হকের আদালতে অভিনেতা কল্যাণের আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক শুনানিতে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অস্বীকার করি নাই, মারা যায় নাই।’

মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘তাই বলে জামিনযোগ্য ধারায় রিমান্ডের সুযোগ কোথায়? আপনি যে আসামিকে কাস্টডি (কারাগারে পাঠানো) করবেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারা আপনাকে এ ক্ষমতা দেয় নাই। যেহেতু আপনাকে (বিচারক) ও  অ্যাডভোকেটদের ফৌজদারি কার্যবিধির আইন তৈরি করেছে, সে আইনে আমাদের জন্ম। জামিনযোগ্য মামলায় রিমান্ড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জামিন আপনাকে এ মামলায় দিতেই হবে। জামিন পেলে আসামি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করবে। রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

আইনজীবী আরো বলেন, ‘আসামি ভিকটিম জিয়াকে কোনো আহত করেননি, জিয়া রাত সাড়ে ১২টায় ফার্মগেটে একটি ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাকে এ মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। কল্যাণ ঘটনার দিন রাতের বেলা জিয়াকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কল্যাণ অপরাধ করলে পালিয়ে যেতেন, তিনি কেন ঢাকা মেডিকেল যাবেন?’

অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার শুনানিতে বলেন, ‘আসামির সঙ্গে ভিকটিমের পূর্বশত্রুতা রয়েছে। আর আসামি স্বীকার করলেন, ঘটনার দিন রাতে ভিকটিমকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছেন, তাহলে তিনি আসামি কীভাবে জানলেন ভিকটিম আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অনেক গাড়িচাপার মামলায় রিমান্ড দেওয়ার নজির রয়েছে। আসামিকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে।’

শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিনের উভয় আবেদন খারিজ করে তিনদিনের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

এর আগে আজ বিকেল ৩টায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে কল্যাণ কোরাইয়াকে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কল্যাণের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় মামলা করেন প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) সাজ্জাদুল কবীর। মামলা নম্বর ৬। এজাহারে দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩৩৮-এর ক ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের উল্টো দিকের রাস্তায় একটি প্রাইভেটকার মোটরসাইকেল আরোহী জিয়া ইসলামকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে জিয়া মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। সেখানে উপস্থিত অন্য গণমাধ্যমের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। জিয়া ইসলামের চিকিৎসার ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। পরে চিকিৎসকরা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো কিংবা বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দুপুরে জিয়াকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক তরুণ সরকার জানান, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফটোসাংবাদিক জিয়া বসুন্ধরা সিটির উল্টো দিকের রাস্তায় মোটরসাইকেলের ওপর ছিলেন। তখন একটি প্রাইভেটকার সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে, গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এনটিভি অনলাইনের কাছে দাবি করেন, ‘প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জিয়া ভাইকে আমি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিইনি।’ কল্যাণ বলেন,  রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর প্রাইভেটকার তেজগাঁও থানার সামনে একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তিনি ও তাঁর বন্ধু রফিক আহত হন। এরপর তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এনটিভি

বাংলাদেশ সময়: ২০৩১ ঘণ্টা, ১১ জানুয়ারি ২০১৭
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসডিএম

শেয়ার করুন