‘ধর্ষক’ নাঈম আশরাফ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী এক মডেলের কিছু কথা

নাঈম আশরাফের কয়েক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন, ধর্ষণ ও প্রতারণার মতো এরকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে নাঈম আশরাফ। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ইমেকার্সে কাজ করার সুবাধে সহজেই মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপিকাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতো। কিন্তু কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। যে কারণে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

নাঈম আশরাফের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন এমন একজন মডেল নাম প্রকাশ করার না শর্তে জানিয়েছেন, একই কায়দায় মদ পান করিয়ে আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিল নাঈম আশরাফ। ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ১০ই মার্চ রাতে। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সেদিন চলছিল ‘অরিজিৎ সিং সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা’ শিরোনামের কনসার্ট। ওই কনসার্টে ডেকে এনে গাড়িতে করে কাজের কথা বলেই আমাকে বনানীর একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রথমে যেতে না চাইলেও নাঈমের প্রতি বিশ্বাস থাকায় সেখানে গিয়েছিলেম আমি।

নাঈম আশরাফের এক বন্ধু জানিয়েছেন, নাঈম আশরাফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করেন এই সুবাধে তাদের সঙ্গে পরিচয়। তার অতীত সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তাদের। তবে এ ঘটনার পর তার সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়েছেন তারা। একইভাবে সাফাতের সাবেক স্ত্রী মডেল পিয়াসা বলেছেন, নাঈম আশরাফ একটা ভণ্ড, প্রতারক। সে অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। তদন্ত করলে এরকম আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।
ভালো পোশাক, পরিচ্ছন্ন চেহারার আড়ালে নাঈম আশরাফ একজন ধূর্ত প্রতারক। প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে ফায়দা হাসিল করে সে। নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে বিভিন্নস্থানে। এমনকি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে তার পোস্টার, ব্যানার রয়েছে ওই এলাকায়। সুযোগ পেলেই প্রতিষ্ঠিতদের সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় এই প্রতারক।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার গান্দাইল গ্রামের ফেরিওয়ালা আমজাদ হোসেনের পুত্র হালিম। ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠে। এসএসসি পরীক্ষার সময়ই প্রধান শিক্ষকের নাম ব্যবহার করে রাজশাহী বোর্ড থেকে প্রশ্ন এনে ফেঁসে যায় সে। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলের নাম নাঈম আশরাফ। ওই নামটি নিজের নাম হিসেবে ব্যবহার করে সে। নিজের পিতা সাধারণ পেশাজীবী হওয়ার কারণে পিতার নাম পরিচয় গোপন করে ওই চেয়ারম্যানকে নিজের পিতা হিসেবে বিভিন্নস্থানে পরিচয় দিয়ে থাকে।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে পিতা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতো নাঈম। এ বিষয়ে ওই এলাকার গান্দাইল ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, হালিম নাম পরিচয় গোপন করে দুটি বিয়ে করেছিল। প্রতারণার বিষয়টি জানার পর দুটি বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। স্কুল জীবন থেকেই সে নানা প্রতারণা করছে। প্রতারণাই তার পেশা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪০ ঘণ্টা, ১৮ মে ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি

শেয়ার করুন