আ. লীগের বর্ধিত সভায় যেসব নির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূল নেতাদের নিয়ে বসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার গণভবনে আয়োজিত এবারের বৈঠকে জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি প্রচার ও প্রকাশনা, তথ্য গবেষণা ও দফতর সম্পাদকদের ডাকা হয়েছে।

মূলত আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের প্রচারণা কৌশল কী হবে; সরকারের উন্নয়নের চিত্র এবং বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াওয়ের তথ্য কীভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে; পাশাপাশি এ কাজে নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের কীভাবে কাজে লাগানো হবে এ বিষয়ে বিস্তর নির্দেশনা দেয়া হবে।

প্রচারণায় প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিতে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকদেরও নির্দেশনা দেয়া হবে বৈঠক থেকে। নির্বাচনী প্রচারণার কাজে জেলার নেতাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়েও বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা সহায়ক তথ্য-উপাত্ত তুলে দেয়া হবে তৃণমূল নেতাদের হাতে।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এমনটা ধরে নিয়েই দলীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। দলকে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণার কাজও এখন থেকেই শুরু করতে চায় দলের হাই কমান্ড। গত নির্বাচন তেমন কোনো প্রতিযোগিতপূর্ণ না হওয়ায় ওই নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো কাজ করতে হয়নি, কিন্তু এবার এমনটা হবে না। তাই এবারের নির্বাচনে প্রচারণায় নতুনত্ব আনতে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের ফর্মুলায় তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দলীয় প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হবে। এবারও এ পরিকল্পনার রূপকার প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। যিনি এ ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা দিয়েছিলেন। মূলত জেলা পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা কৌশল নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনা দিতেই এ বিষয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। দিকনির্দেশনা ও প্রচারণা উপকরণ তুলে দেয়ার পাশাপাশি কীভাবে এগুলোকে বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে হবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হবে দলীয়ভাবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সে অনুযায়ী সুসংগঠিত করে তোলা হবে। দলের মধ্যে কিছু ভুলত্রুটি রয়েছে, সেগুলো দূর করে সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। মূলত সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা কৌশল নিয়েই আলোচনা হবে। বিভিন্ন বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের মতামত নেয়া হবে। তাদের মতামতের ওপর কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

দলীয় ও সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র নিশ্চিত করেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দল ও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা চালানোর উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে দলীয় এমপিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে ওই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিশেষ বর্ধিত সভার পরদিন ২১ মে সকাল থেকে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ের একই স্থানে যেখানে এমপিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল, সেখানেই তৃণমূল নেতাদেরও একই রকম প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এতে সারা দেশ থেকে সাংগঠনিক জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও উপসম্পাদক, দফতর সম্পাদক ও উপসম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদককে ডাকা হয়েছে। তবে যেসব জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই, সেখানকার শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে কীভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে সে বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন নেত্রী। আর এসব কাজে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করে তা কী উপায়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে তার কৌশল নিয়ে কথা বলবেন তিনি। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও এ সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয়ার জন্য ২১ মে তৃণমূল নেতাদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পুরো দলকে একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এ বিশেষ বর্ধিত সভা আহ্বানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে তৃণমূল নেতাদের পরামর্শ নেয়া হবে। অঞ্চলভেদে কোথায় কোনটাকে গুরুত্ব দিতে হবে, তার একটা খসড়া ধারণা তুলে আনার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে সংগঠনের কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে তা নিয়েও মতামত চাওয়া হবে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে। সে হিসেবেই সমাধানের কাজ করা হবে আগামীতে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও সদস্য সংগ্রহ অভিযান এবং নবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে এ সভা থেকে। সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের সভাপতি সদস্য সংগ্রহের নীতিমালা, নির্দেশনা নিজেই দেবেন। আগামী জুন থেকে পুরোদমে আবার সদস্য সংগ্রহ করা হবে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পরামর্শ নেবেন।

দলীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, বিশেষ বর্ধিত সভায় আট বিভাগ থেকে আটজন জেলা নেতাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে আট সাংগঠনিক সম্পাদককে নিজ বিভাগের একজন নেতাকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ সভায় জেলার নেতাদের বক্তব্য শোনবেন নেত্রী। পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণা নিয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে তৃণমূল নেতাদের। কীভাবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে, কীভাবে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াওয়ের চিত্র তুলে ধরতে হবে সেসবের নির্দেশনা দেয়া হবে। এজন্য সভায় আগত জেলা নেতাদের হাতে দলের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবের চিত্র তুলে দেওয়া হবে। এসব চিত্র ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পাড়া-মহল্লা ও বাজারে সম্প্রচার করার নির্দেশনা দেয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪০ ঘণ্টা, ১৯ মে ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি

শেয়ার করুন