রেহাই পাচ্ছেন নওয়াজ শরিফের মেয়ে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ পানামা পেপারস ফাঁসের পর অর্থ পাচারের অভিযোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার অ্যাপেক্স আদালতের রায়ে কার্যত মরিয়মকে বিরোধী দল তেহরিক ই ইনসাফ ও অন্যান্য আবেদনকারীদের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

খবরটি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের দৈনিক ডন। আজ শুক্রবার ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে, বাবার (নওয়াজ শরিফ) কাছ থেকে উপহার নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, মরিয়ম তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সাবেক উপ অ্যাটর্নি জেনারেল তারিক জাহাঙ্গীরি বলেন, আপাতত মরিয়ম নওয়াজকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

বিরোধীদের করা আবেদনে অভিযোগ করা হয়, লন্ডনের সম্পদের লভ্যাংশের মালিক ছিলেন মরিয়ম। ওই সম্পদে তার দুই ভাই হাসান ও হুসেইন শরিফের যৌথ মালিকানা রয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়, মরিয়ম যেহেতু বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন সেহেতু প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের তার সম্পদের বিবরণে মেফেয়ার প্রপার্টি ও ফ্ল্যাটের বিষয়টি উল্লেখ করা উচিত ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, মরিয়ম নওয়াজ বিভিন্ন উপলক্ষে বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আইনত তিনি বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন না।

রায়ে আরও বলা হয়, আমরা আরও লক্ষ্য করেছি মরিয়মের কৃষি জমির মালিকানা রয়েছে, তার নির্দিষ্ট আয় রয়েছে, বিভিন্ন কোম্পানির ২০ কোটিরও বেশি শেয়ার হোল্ডার তিনি। মরিয়মের স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। তিনিও ভালো অবসরভাতা পান। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য হওয়ায় তিনি ভালো ভাতাও পান।

আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বলা হয়, মরিয়ম নওয়াজ শরিফের বাড়িতে বসবাস করেন। রায়ে বলা হয়, মরিয়ম তার দাদির মালিকানাধীন একটি অংশে বসবাস করেন। এ কারণে তিনি নওয়াজ শরিফ বা অন্যদের ওপর নির্ভরশীল নন। এসব কারণে মরিয়ম মেফেয়ার প্রপার্টিজের লভ্যাংশের মালিক কি না, তা অপ্রাসঙ্গিক। বাবা নওয়াজ শরিফের ওপর মরিয়মের নির্ভরশীলতার বিষয়ে আইনগত কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। তাই মামলার এই দিকটি নিয়ে আর আলোচনার প্রয়োজন নেই।

রায়ে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ তদন্ত দল বা জেআইটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত জেআইটিকে নওয়াজ শরিফ, তার দুই ছেলে হাসান এবং হুসেইনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত বছর পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক কোটির বেশি নথি ফাঁস হয়। এর কিছু নথি থেকে জানা যায়, নওয়াজ শরিফ, তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ, ছেলে হাসান ও হোসেন নওয়াজ একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এ ছাড়া অন্তত আটটি অফশোর কোম্পানির মালিকানার সঙ্গে নওয়াজ ও তার পরিবারের যুক্ত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায় ওই সব নথিতে।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), জামায়াত-ই-ইসলামি (জেআই), ওয়াতান পার্টি ও অল পাকিস্তান মুসলিম লিগ প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের আবেদন করে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৮ ঘণ্টা, ২১ এপ্রিল ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস

শেয়ার করুন