চার হাজার বাস নামবেই

মেয়র হিসেবে ২ বছর পূর্ণ করলেন বিভক্ত ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের পর ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শপথ নেন তিনি। নির্বাচনের সময় নগরীর উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সে অনুযায়ী কাজও করছেন। গত ২ বছরে তারা কি কাজ করেছেন সে নিয়ে হিসেব কষছেন নগরবাসী। বিগত দিনে তাদের কার্যক্রমে নগরবাসী আশার আলো দেখতে পেলেও কিছু ব্যর্থতার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে মেয়রের আশা, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে আগামী ৩ বছরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষম হবেন।

গত দুই বছরে এর কতটুকু পূরণ করতে পেরেছেন, কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যায় পড়ছেন এবং আগামী দিনে তাঁর পরিকল্পনা কী ? এই নিয়ে সম্প্রতি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন একটি জাতীয় দৈনিককে। সেই সাক্ষাৎকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল-

প্রশ্নঃ দুই বছর হলো আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন। এই সময়ে কী কী চ্যালেঞ্জ আপনাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে?

আনিসুল হক: আমার জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল, সুস্থ নগরজীবনের জন্য যা কিছু করা উচিত বলে মনে হয়েছে তার সবই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি নির্বাচনের সময়। কোন জিনিসটা মেয়রের ক্ষমতায় আছে, কোনটা নেই—বুঝে না-বুঝে প্রায় সবার মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন এসে দেখি এর বেশির ভাগই সিটি করপোরেশনের এখতিয়ারে নেই। যেমন যানজট, বড় জলজট। কাজে নেমে অনেক কিছু বুঝতে পারছি এখন।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ করপোরেশন অফিসে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা। দায়িত্ব নিয়ে শুনলাম, সিটি করপোরেশনের যেকোনো পর্যায়ে জনবল বদলি করতে গেলে অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের পরামর্শ ছাড়া করা যায় না। দায়িত্ব নেওয়ার সাত দিনের মাথায় শক্তিশালী একজন নেতাকে সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) করেছি। এক মাসের মাথায় অভ্যন্তরীণ বদলি করেছি ১৬৯ জনকে। প্রথম দিন থেকে মানসিকতা পরিবর্তনে কাজ করতে হয়েছে। তারপর ছিলেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা। তাঁরা দীর্ঘদিন একটা সমাজকাঠামোয় ছিলেন, কাজ করেছেন। তাঁদের আস্থায় নিতে হয়েছে। দুই বছর পর বলতে পারি, উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো কাউন্সিলর আইনের বাইরে কোনো কাজ করেননি। আমার অভিজ্ঞতা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি একটি পারিবারিক আবহ তৈরি করা যায়, তাহলে কাজে গতি আসে, প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়। করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে সেই কাজটা করতে চেয়েছি আমি।

প্রশ্নঃ এতে করে সেবা ও কাজের গুণগত মানে কোনো পরিবর্তন এসেছে?

মেয়র: সব দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে, এটা বলব না। তবে মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। নির্মাণকাজ যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হচ্ছে। আমি ঠিকাদারদের নিয়ে বসেছি। বলেছি, মেয়র অফিসকে কোনো টাকা দিতে হবে না। ভালো করে কাজ করেন। আগে ঠিকাদারেরা কাজ শেষ করে বিলের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতেন, ধরনা দিতেন। কিন্তু আমরা ঠিকাদারদের ঠিকানায় চেক পৌঁছে দিচ্ছি। ঠিকাদার বিল নিতে দেরি করলে করপোরেশনের লোক গিয়ে তাঁর অফিসে চেক পৌঁছে দেন। এই উদ্যোগ ঠিকাদারদের মানসিকতা বদলাতেও সহায়তা করেছে।

প্রশ্নঃ ই-টেন্ডারিংয়ের কারণে অসন্তোষের ঘটনাও তো ছিল।

মেয়র: ই-টেন্ডারিংয়ের কারণে কারও কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে। যাঁরা জোর করে কাজ নিয়েছেন, কাগজ বানিয়ে কাজ নিয়েছেন। প্রথম দিকে কারও থাকলেও এখন আর নেই।

প্রশ্নঃ করপোরেশনকে আরও কার্যকর করতে, এর সেবার মান আরেক ধাপ বাড়াতে কি কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন দরকার বলে আপনার মনে হচ্ছে?

মেয়র: সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তন দরকার। আমি মনে করি, সিটি করপোরেশনকে আরও কার্যকর করতে আইন বদলানো প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের সেভাবে ক্ষমতা নেই। সিটি করপোরেশনের জন্য ১০০ পরিবেশ পুলিশ চেয়েছি। রেলওয়ে পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আছে। নিজের পুলিশ থাকলে কাজ অনেক সহজ হতো। আজকে উচ্ছেদ করলাম, কাল দখল হয়ে যাচ্ছে। তখন আবার পুলিশ বিভাগের কাছে ফোর্স চাইতে হয়। সময় লাগে। নিজের পুলিশ থাকলে অনেক বিষয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ হতো।

প্রশ্নঃ এ দুই বছরে কোন কাজটি করে আপনি সন্তুষ্টি নিয়ে নিজেকে বলতে পেরেছেন, যাক করলাম।

মেয়র: গত ২৫-৩০ বছরে কেউ চেষ্টা করেননি কিংবা করার সাহস করেননি অথবা কায়েমি স্বার্থবাদীদের কারণে করেননি এমন কিছু কাজ আমরা করেছি। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের রাস্তা, গাবতলী বাস টার্মিনাল, গুলশানের মরিয়ম টাওয়ারের পেছনের রাস্তা, মোনায়েম খানের বাড়ির সামনের রাস্তা, বিভিন্ন দূতাবাসের সামনের রাস্তা দখলমুক্ত করার কথা কেউ কল্পনাও করেনি। আমি করেছি। প্রতিটি কাজ করার আগে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বসেছি, বুঝিয়েছি, তারপর কাজে নেমেছি। একটি হাইকমিশন আমাদের সময় দিচ্ছিল না। একাধিকবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়ে পাইনি। একদিন সরাসরি তাদের গেটে গিয়ে বললাম, ‘মেয়র ইজ ইন দ্য গেট, ওয়ান্ট টু মিট হাইকমিশনার।’ হাইকমিশনার নেমে এসে দেখা করতে বাধ্য হয়েছেন। এবং তাঁর অফিসের সামনের ফুটপাত-রাস্তাও আমরা মুক্ত করেছি।

প্রশ্নঃ এরপর আপনার হাতে বড় কাজ কী আছে?

মেয়র: আমিনবাজারে সিটি করপোরেশনের ৫২ একর জমি আছে। কিছু সড়ক বিভাগের কাছে, কিছু অবৈধ দখলে আছে। এগুলো দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো কিছু করার আগে বরাবরের মতো আমি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করি। আলোচনা ভেঙে গেলে বুলডোজার যায়। এখানেও আমাদের আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। শিগগির আমরা এই ৫২ একর জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারব।

প্রশ্নঃ ঢাকার মতো শহরের একজন মেয়রের এই শক্ত থাকার বা শক্তির উৎস কী?

মেয়র: মেয়রের পেছনের শক্তি রাজনৈতিক শক্তি। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল দিয়েছে। এলাকার সাংসদ, কাউন্সিলরসহ সবাই একত্রে কাজ করেছি বলেই অনেক কিছু করা সম্ভব হয়েছে। একবার গুলশান, বনানী, বারিধারার প্রভাবশালী দখলদারদের একটি তালিকা দেখিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, এঁরা সবাই আমাদের চেনাজানা, পরিচিত লোক। প্রধানমন্ত্রী আমাকে তৎক্ষণাৎ বললেন, তাঁরা কেউ আমার লোক না। আমার লোক সাধারণ মানুষ। তুমি তোমার কাজ করে যাও।
একটা অবৈধ বিলবোর্ডে হাত দেওয়া যেত না। আমরা এমন ২০ হাজার বিলবোর্ড সরিয়েছি। বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু আমরা করতে পেরেছি।

প্রশ্নঃ ফুটপাত দখলের সঙ্গেও তো প্রভাব, রাজনীতি যুক্ত। তার মধ্যে প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধদের চলাচলের উপযোগী ফুটপাত গড়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আপনি। ফুটপাতগুলো কি দখলমুক্ত হয়েছে?

মেয়র: এই শহরে কিছু বড় লোক হকার আছে, যারা ফুটপাত ও রাস্তা ২০-২৫ বছর ধরে দখল করে রেখেছে। গুলশান প্লাজা থেকে গুলশান ক্লাব পর্যন্ত এমন ১১ জন দখলদার ছিল। কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। গুলশান অ্যাভিনিউতে ফুটপাত বড় করেছি। গুলশান, বারিধারায় এখন কেউ ফুটপাতে গাড়ি পার্ক করে না।
বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য ফুটপাতে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেসব ফুটপাত আগে করা হয়েছে, সেগুলোর কোণগুলো প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে রাস্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের কেউ চোখে কম দেখেন, কেউ বেশি দেখেন। তাঁদের জন্য কোথাও লাল, কোথাও হলুদ রঙের টাইলস বসানো হচ্ছে।

প্রশ্নঃ আপনার কথায় বারবার গুলশান, বনানী, বারিধারার প্রসঙ্গ আসছে। এমন আলোচনাও আছে যে গুলশান, বনানী, বারিধারায় যতটা উন্নয়ন হচ্ছে, অন্যান্য এলাকায় তা হচ্ছে না। ওই এলাকাগুলো নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মেয়র: নিজেদের টাকায় নিজেদের উন্নয়ন করার মতো সামর্থ্য সিটি করপোরেশনের থাকে না। সরকারি টাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ কারণে যে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো তৈরি ছিল, সিটি নির্বাচনের পর সেগুলোই দ্রুত মন্ত্রণালয়ে অর্থায়নের জন্য পাঠানো হয়েছিল। আর সেই প্রস্তাবগুলো ছিল মূলত গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকার। এ কারণে এ সময়টায় এই এলাকায় বেশি কাজ হয়েছে। এরপর আমরা মোহাম্মদপুর, মিরপুর, খিলগাঁওয়ের মতো এলাকার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছি। গুলশান, বনানী, বারিধারার উন্নয়নের রেপ্লিকা (প্রতিরূপ) আমরা সেখানে করব।

প্রশ্নঃ গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকায় এ পর্যন্ত কত টাকার উন্নয়নকাজ করেছেন?

মেয়র: এই এলাকায় গত দুই বছরে ৩০০ কোটি টাকার মতো কাজ হয়েছে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, খিলগাঁওসহ অন্যান্য এলাকায় এখন ৬৫০ কোটি টাকার কাজ হাতে নিয়েছি। ছয় শতাধিক রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। গুলশান, বনানীর লোকজন তাদের এলাকার কাজ দেখে যতটা খুশি হয়েছে, অন্য এলাকার কাজ দেখে লোকজন আরও বেশি খুশি হবে।

প্রশ্নঃ গত দুই বছরে পার্ক, মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান উন্নয়নে উদ্যোগটা কম মনে হয়েছে। পার্কগুলো কবে নাগাদ ব্যবহারের উপযোগী হবে?

মেয়র: পার্কগুলোর উন্নয়নকাজে হাত দিয়েছি। গণপরিসর বা পাবলিক স্পেস করতে উদ্যোগ নিয়েছি। দেড় বছরের মধ্যে সব পার্ক, খেলার মাঠ উন্নয়ন হয়ে যাবে। তিন বছর পর ঢাকাকে সবুজ ঢাকা বলতে পারব। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গাছ দেওয়ার জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে দুটি গাড়ি দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নঃ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশির ভাগ এলাকা এলইডি বাতির আওতায় এসেছে। উত্তরে সড়কবাতি বদল হবে কবে নাগাদ?

মেয়র: এলইডি বাতির বেলায় আমি সময় নিয়েছি। সতর্ক থাকছি। কারণ, এটা নতুন টেকনোলজি। নানা কিছু শুনছি। এটা চোখে সমস্যা করতে পারে ইত্যাদি নানা আলোচনা আছে। সাত-আট মাস ধরে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছি। অভিজ্ঞতা দরকার। টাকা সমস্যা নয়, সঠিক জিনিসটা দরকার। আমি ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের এলইডি কেনার চেষ্টা করছি।

প্রশ্নঃ রাজধানীতে গণশৌচাগারের তীব্র সংকট রয়েছে। অধিকাংশই ব্যবহারের উপযোগী নয়।

মেয়র: ১৩টি গণশৌচাগার করেছি। পুরোনো শৌচাগারগুলো সংস্কারের বিষয়ে কাজ চলছে।

প্রশ্নঃ নতুন গণশৌচাগার ব্যবহারে ৫ থেকে ১০ টাকা খরচ করতে হয়। ভাসমান গরিব মানুষের পক্ষে এটা কি সম্ভব?

মেয়র: একটি শৌচাগার পরিচালনার ব্যয় আছে। তবে লোকজন লাইন দিয়ে ব্যবহার করছে। বিনা মূল্যে করে দিলে সেটি রক্ষণাবেক্ষণ করা কষ্টকর হবে।

প্রশ্নঃ প্রতিশ্রুত পরিচ্ছন্ন ঢাকার কাছাকাছি কি যেতে পারছেন?

মেয়র: ৬৩টি জায়গায় রাস্তার ওপর ময়লার কনটেইনার থাকত। সিটি করপোরেশনের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জায়গা নিয়ে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) করেছি। এখন সড়ক থেকে ময়লার কনটেইনার সরেছে। আমিনবাজার ল্যান্ড ফিল্ড স্টেশন (ভাগাড়) নিয়েও ঝামেলা আছে। এটি যেভাবে তৈরি হয়েছিল, সেটাকে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। আর ঢাকায় যে পরিমাণ ময়লা হয়, তার জন্য আমিনবাজার ল্যান্ড ফিল্ডটি পর্যাপ্ত নয়।

প্রশ্নঃ ময়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আলোচনা দীর্ঘদিনের। এটা কি আদৌ সম্ভব?

মেয়র: ময়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি খুবই ব্যয়বহুল আর টেকনিক্যাল। এর জন্য সময় লাগবে। তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উৎপাদন করতে পারলে সরকার এই বিদ্যুৎ কিনতে রাজি আছে।
প্রশ্নঃ দুই বছরেও মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেন না কেন?

মেয়র: প্রথম বছরের তুলনায় তিন গুণ বেশি মশার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বাজেটে তিন গুণ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারপরও মশা শেষ হয় না। নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়া অন্য এলাকা থেকে মশা চলে আসছে (হাসি)।

প্রশ্নঃ সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ও দুর্ভোগ পুরোনো সমস্যা। সমন্বয় আনতে কী করেছেন?
মেয়র: তিতাস, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন একেক সময় প্রকল্পের টাকা পায়। একেক সংস্থা একেক সময় পরিকল্পনা করে। পুরোপুরি সমন্বয় আসলে অসম্ভব ব্যাপার। কিছু সমন্বয় হয়েছে। এখন আমরা আগেই জানতে পারছি কোন সংস্থা কোন সড়কে কাজ করবে। সমন্বয় যতটুকু সম্ভব বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশ্নঃ আপনার এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় বস্তি আছে। এসব বস্তিতে মাঝে মাঝে আগুনও লাগছে। বস্তির মানুষ আর হকার পুনর্বাসনে কোনো উদ্যোগ কি নিচ্ছেন?

মেয়র: বস্তি বা হকার সমস্যার সমাধান কঠিন ব্যাপার। হকার্স মার্কেট করাই হকারদের সমস্যার সমাধান নয়, সেটি হলে ৩০ বছর আগেই এ সমস্যার সমাধান হতো। বস্তিতে আগুন লাগলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সহায়তা করতে হয়। কড়াইল কিংবা বাঁশবাড়ি বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঘর তুলে দিতে অনেকের কাছে আমাকে হাত পাততে হয়েছে। আসলে এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মেয়রের কাছে নেই।

প্রশ্নঃ সিটি করপোরেশনে কমিউনিটি সেন্টারগুলোর অবস্থা বেহাল। নতুন কমিউনিটি সেন্টারও নির্মাণ করেননি। এর ব্যবস্থাপনাটা উন্নত হয় না কেন?

মেয়র: অনেকগুলো কমিউনিটি সেন্টার করার টাকা পেয়েছি সরকারের কাছ থেকে। সমস্যা হলো, করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারগুলো লোকসান করে। কিন্তু একই এলাকার বেসরকারি ছোট কমিউনিটি সেন্টারও লাভ করে। তাই সিটি করপোরেশনের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা রেখে বাকিটা আউটসোর্স করে দেওয়ার পক্ষে আমি। তবে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রশ্নঃ আপনি রাজধানীতে চার হাজার বাস নামানোর কথা বলেছেন। গণপরিবহন নিয়ে কোনো আশার কথা কি নগরবাসীর জন্য বলা যায়?

মেয়র: রাজধানীবাসীর জন্য হাঁটাচলার ব্যবস্থা করা, সড়কবাতির ব্যবস্থা করা, রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা করপোরেশনের প্রাথমিক কাজ। চার হাজার বাস নামানোর কাজ সিটি করপোরেশনের নয়। তবু উদ্যোগ নিয়েছি। বাসমালিকেরা, সুবিধাভোগীরা রাজি হবেন কি না, সেটি ছিল বড় প্রশ্ন। আশার কথা, বাসমালিকেরা কয়েকটি রুটে একই বাস নামাতে রাজি হয়েছেন। দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ কে দেবে, কোথায় হবে এই বাস টার্মিনাল, সারাই কারখানা কোথায় হবে—এগুলো বড় প্রশ্ন। তবে কোনো কাজে নেমে ছেড়ে দিইনি, লেগে আছি। এই বাস নামবেই।

প্রশ্নঃ কাজের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক জনকাঠামোর বাইরে থেকে কি আপনি কোনো পরামর্শ, সহায়তা নিচ্ছেন?

মেয়র: গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন সোসাইটি সিটি করপোরেশনকে সহায়তা করছে। সিসি ক্যামেরা বসানো, নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ ও গেট বসিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা—এ কাজগুলোতে তারা করপোরেশনের সঙ্গে আছে। এ ছাড়া স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ইকবাল হাবিব, কাসেফ মাহবুব চৌধুরী, মুস্তাফা খালিদ পলাশ, এনামুল করিম নির্ঝরসহ অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে নানা কাজে সহায়তা করছেন।

কৃতজ্ঞতায় প্রথম আলো

বাংলাদেশ সময়: ১২৩৫ ঘণ্টা, ০৮ মে ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস

শেয়ার করুন