দল-পদ ছাড়ার চিন্তা পরীক্ষিত নেতাদের!

বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

ভোরের কাগজ: ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ পদবঞ্চিত নেতারা। কমিটিতে নিজের নাম না দেখে অনেকেই হতাশ হয়েছেন। ভেতরে ভেতরে অনেকেই ফুঁসে উঠেছেন। বিশেষ করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের অনেকেই এখন হাইকমান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ। কাক্সিক্ষত পদ না পেয়ে দল ছাড়ার কথা ভাবছেন অনেকে পরীক্ষিত নেতা। তারা ভাবছেন, আন্দোলন সংগ্রামে থেকে সরকারের নির্যাতন অত্যাচার এবং মামলা মোকাবেলার চেয়ে বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দেয়াটাই শ্রেয়। অনেকেই কাক্সিক্ষত পদ না পেয়ে রাজনীতি না ছাড়লেও দলীয় পদ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ঢাকা মহানগর বিএনপি অনেকটাই নিষ্প্রাণ। মহানগরে সাবেক মেয়র যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাসের মধ্যকার গ্রুপিং সবার জানা। এ অবস্থায় সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙা করতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। খোকা প্রবাসে থাকায় মির্জা আব্বাসকে মহানগরের দায়িত্ব দিয়ে সুফল মিলেনি। এ অবস্থায় প্রায় তিন বছর পর গত মঙ্গলবার রাতে দুইভাগ করে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বিদায়ী কমিটির সদস্য সচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ৭০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি ও আহসান উল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে- কমিটিতে বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা গত ৮ বছর হামলা-মামলার শিকার হয়েও বিএনপির রাজনীতি ধরে রেখেছেন তাদের অনেককেই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নানাভাবে হয়রানির শিকার ওইসব নেতারা বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

কমিটিতে নাম রয়েছে ডেমরার আলোচিত সাবেক কাউন্সিলর নবীউল্লাহ নবী। তিনি যে পদ পেয়েছেন তাতে তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। বিএনপি তো বটেই, রাজনীতি থেকেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নবীকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি করা হয়েছে। তার আকাক্সক্ষা ছিল আরো বড় কোনো পদের। তিনি এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হবেন- এমন গুঞ্জনও ছিল।

কমিটিতে সহসভাপতির তিন নম্ব^রে নাম দেখে ক্ষুব্ধ নবী গতকাল বুধবার বলেছেন, এই পদ ছাড়বেন তিনি। শুধু কমিটি থেকেই নয়, রাজনীতি থেকেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দুএকদিনের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তিনি বলেন, রাজনীতি করার কারণে এ পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০টার মতো মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকজন সাবেক কমিশনার, বিভিন্ন থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা ফোন করছেন। তারা ক্ষুব্ধ। তাদের জানিয়ে দিয়েছি- আমি আর রাজনীতি করব না। এদিকে কমিটিতে নবীর ওপরে রয়েছেন শামসুল হুদা ও ইউনুস মৃধা। যারা মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরে মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেয় বিএনপি। ওই আহ্বায়ক কমিটিকে এক মাসের মধ্যে ওয়ার্ড-থানা কমিটি গঠন করে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে সম্মেলন করে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময়সীমা বেঁধে দেয় কেন্দ্র। তবে দলীয় কোন্দলসহ নানা প্রতিক‚ল পরিবেশের কারণে প্রায় তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি।

গত মঙ্গলবার ঘোষিত কমিটিতে ঢাকা দক্ষিণ শাখায় সহসভাপতি শামছুল হুদা-মুগদা, ইউনুস মৃধা-খিলগাঁও, নবী উল্লাহ নবী-যাত্রাবাড়ী, মীর হোসেন মিরু-কদমতলী, মো. আবু মোতালেব-চকবাজার, নাসিমা আক্তার কল্পনা-লালবাগ, ফরিদ উদ্দিন-সূত্রাপুর, মো. সাজ্জাদ জহির- শাহ্জাহানপুর, মোস্তাফিজুর রহমান হিরু-সবুজবাগ, গোলাম হোসেন-সবুজবাগ, আনবীর আদেল খান বাবু-পল্টন, আরিফুর রহমান আরিফ-রমনা, ইশরাত মির্জা-বংশাল, মোশারফ হোসেন খোকন-লালবাগ, আতিক উল্লাহ আতিক-যাত্রাবাড়ী, মীর আশরাফ আলী আজম-লালবাগ, মো. মোহন-বংশাল, জয়নাল আবেদীন রতন-ডেমরা, মো. আবদুল লতিফ-কলাবাগান, সিরাজুল ইসলাম-কলাবাগান, হাজি দেলোয়ার হোসেন-কামরাঙ্গীরচর, আবুল হাসান ননি তালুকদার-শাহবাগ, হামিদুর রহমান হামিদ-সূত্রাপুর, এসকে সেকান্দার কাদির-পল্টন, সাব্বির হোসেন আরিফ- গোপীবাগ, নিতাই চন্দ্র ঘোষ-সূত্রাপুর, যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব-সবুজবাগ, আ ন ম সাইফুল ইসলাম-শ্যামপুর, শেখ রবিউল আলম রবি-ধানমন্ডি, হারুনুর রশিদ হারুন (কমিশনার)-মতিঝিল, আলী রেজাউল রহমান রিপন-কোতোয়ালি, এডভোকেট ফারুকুল ইসলাম-খিলগাঁও, আরিফুর রহমান নাদিম-বংশাল, লতিফ উল্লাহ জাফরু-বংশাল, আবদুস সাত্তার-সূত্রাপুর, মকবুল হোসেন টিপু-গেন্ডারিয়া, আলমগীর হোসেন-যাত্রাবাড়ী, খতিবুর রহমান খোকন-চকবাজার, আবুল খায়ের বাবলু-ধানমন্ডি, আনোয়ার পারভেজ বাদল-চকবাজার, আবদুল হান্নান-শাহবাগ, আনোয়ার হোসেন টিপু-নিউমার্কেট, শাহীন লাল শাহীন-শ্যামপুর, কেএম জুবায়ের এজাজ-ধানমন্ডি, ফরহাদ হোসেন-ডেমরা, সহসাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম-কামরাঙ্গীরচর, মোয়াজ্জেম হোসেন খান-খিলগাঁও, তারেক জামাল-গেন্ডারিয়া, জাফর সাদেক টুটুল-কলাবাগান, আলী আহম্মেদ-নিউমার্কেট, মারুফ তালহা মনি-স্বেচ্ছাসেবক দল, হামিদুল হক-সবুজবাগ, জামিলুর রহমান নয়ন-যুবদল, শেখ মোহাম্মদ আলী চায়না-মুগদা, সাইদুর রহমান সাঈদ-শাহবাগ, রফিকউল্লাহ রফিক-হাজারীবাগ, আকবর হোসেন নান্টু-ডেমরা, শাহেদা মোরশেদ-লালবাগ, জাফর আহমেদ-কদমতলী, হাজি লিটন-সূত্রাপুর, হাজি নাজিম- কোতোয়ালি, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া-ধানমন্ডি, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন-যাত্রাবাড়ী, সাইফুল ইসলাম পটু-পল্টন, রফিকুল ইসলাম রাসেল-লালবাগ, দপ্তর সম্পাদক সাঈদুর রহমান মিন্টু-গেন্ডারিয়া ও প্রচার সম্পাদক আবদুল হাই পল্লব-যাত্রাবাড়ী।

ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় সহসভাপতি মুন্সী বজলুল বাসেত আঞ্জু-মিরপুর, আবদুল আলী নকী-গুলশান, মো. সাহাব উদ্দিন-তেজগাঁও, আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন-পল্লবী, মশিউর রহমান মশু-শাহআলী, আতিকুল ইসলাম মতিন- মোহাম্মদপুর, আলী ইমাম আসাদ-পল্লবী, মাসুদ-মিরপুর, ফয়েজ আহমেদ ফরু -রামপুরা, কাজী হযরত আলী- ভাটারা, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন-বিমানবন্দর, নবী সোলায়মান-তেজগাঁও, ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি-শাহআলী, এ এল এম কাওসার আহমেদ-মিরপুর, রবিউল আউয়াল-মিরপুর, আলতাফ উদ্দিন মোল্লা-পল্লবী, আলহাজ শামছুল হক-উত্তরা, এস এম আনোয়ার হোসেন-মোহাম্মদপুর, আবুল হোসেন-বাড্ডা, আনোয়ার হোসেন-মিরপুর, আলহাজ আবুল হাসেম-আদাবর, শাহিনুর আলম মারফত-খিলক্ষেত, আক্কেল আলী-রামপুরা, যুগ্ম সম্পাদক কফিল উদ্দিন- উত্তরা, শামীম পারভেজ-মিরপুর, আবুল মেসের-রামপুরা, নাসির আহমদ-বিমানবন্দর, আশরাফ হোসেন-বিমানবন্দর, সাইফুল রহমান মিহির-রামপুরা, মোয়াজ্জেম হোসেন মতি-কাফরুল, গোলাম সাবের চৌধুরী কিরণ -তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, মো. আতিক-তুরাগ, গাজী মো. রেজাওয়ান উল হোসেন-মিরপুর, গোলাম রব্বানি-মিরপুর, মাহফুজুর রহমান-বাড্ডা, বেলাল চেয়ারম্যান-রূপনগর, কোষাধ্যক্ষ-আতাউর রহমান চেয়ারম্যান -ভাটারা, সহসাধারণ সম্পাদক-গোলাম মোস্তফা-তুরাগ, নুরুল হক-পল্লবী, আশরাফুজ্জামান জাহান-কাফরুল, ডিএম নজরুল ইসলাম-খিলক্ষেত, আনোয়ার হোসেন নান্টু-কাফরুল, হেলাল তালুকদার-উত্তরা পূর্ব, তারিকুল আলম ট্যানজিং-স্বেচ্ছাসেবক দল, খন্দকার ইব্রাহিম খলিল-ভাষানটেক, দেওয়ান গিয়াস উদ্দিন-শাহ আলী, মনিরুল আলম রাহীমি-রমনা, মাহাবুবুল করিম জাফরু-বাড্ডা, আবদুুল হীল বাকী-পল্লবী, রেজাউর রহমান তপন-কাফরুল, আলাউদ্দিন সরকার টিপু-বিমানবন্দর, হাফিজুর রহমান ছাগির-উত্তরা পশ্চিম, রেজাউর রহমান ফাহিম-বনানী, কে এম এইচ নজরুল ইসলাম-বনানী, তুহিনুল ইসলাম তুহিন-বাড্ডা, শেখ ইকবাল হোসেন-পল্লবী, সাংগঠনিক সম্পাদক- আক্তার হোসেন-খিলক্ষেত, সৈয়দ মনজুর হোসেন মঞ্জু-বনানী, সোহেল রহমান-মোহাম্মদপুর, দপ্তর সম্পাদক- এবিএম আবদুল রাজ্জাক-মিরপুর, প্রচার সম্পাদক-ভিপি হানিফ-বনানী ও প্রকাশনা সম্পাদক-মশিউর রহমান বাবু -উত্তর পশ্চিম।

বাংলাদেশ সময় ১৩১০ ঘণ্টা, ২০ এপ্রিল, ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস

  • ট্যাগ
  • BNP
শেয়ার করুন