নাগরীর সঙ্গে পরকীয়া প্রসঙ্গে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন সুমী

ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত কবি ও গীতিকার এবং সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন নাগরী মুখ খুলেছেন। রিমান্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা আরেক আসামি নিহতের স্ত্রী নুরানী আক্তার সুমীও মুখ খুলেছেন। তবে হত্যার দায় অস্বীকার করেছেন নাগরী। আর নূরুল ইসলাম স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্ত্রী সুমী দাবি করলেও পুলিশ কর্মকর্তারা মোটামুটি নিশ্চিত যে এটি হত্যাকাণ্ড।

তবে হত্যার দায় স্বীকার না করলেও পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দু’জনই। তবে শাহাবুদ্দীন নাগরীর পরকীয়া সম্পর্কে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন সুমী। তবে সুমির এমন বিস্ফোরক তথ্যে কিছুই বলেননি নাগরীর। নূরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় তার স্ত্রীকে দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের দিকে এগিয়ে দিয়েছেন। ফ্ল্যাটে স্বামীর উপস্থিতিতে শাহবুদ্দীন নাগরী আসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন-এমন তথ্য সুমী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মাতলুবুর রহমান বলেন, আমরা সব দিক সামনে রেখে শাহবুদ্দিন নাগরী ও সুমীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একটি সূত্র জানায়, শাহাবুদ্দিন নাগরীর সঙ্গে সুমীর পরিচয় কিভাবে হলো-তা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে শাহাবুদ্দিন নাগরী একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। তিনি হূদরোগী হওয়ায় খুব সাবধানে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ পর্যায়ে গতকাল নাগরী ও সুমীকে মুখোমুখি করে এক সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

পুলিশের রমনা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নূরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় তার স্ত্রীকে দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের দিকে এগিয়ে দিয়েছেন। ফ্ল্যাটে স্বামীর উপস্থিতিতে শাহবুদ্দীন নাগরী আসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন-এমন তথ্য সুমী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। এরপরও নূরুল ইসলামকে কেন হত্যা করা হলো-তা নিয়ে তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন।

ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টের ম্যানেজার বাবু স্বর্ণকার পুলিশকে জানান, ১২ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে নূরুল ইসলাম বাইরে থেকে ফ্ল্যাটে ঢোকেন। এরপর থেকে তিনি আর বের হননি। পরদিন ১৩ এপ্রিল বিকালে শাহাবুদ্দীন নাগরী ওই ফ্ল্যাটে আসেন। বেরিয়ে যান সন্ধ্যার দিকে। রাত ১০টার দিকে সুমীর গাড়িচালক সেলিম এসে জানান যে ম্যাডাম (সুমী) অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে ম্যাডামের বোন ফোন করে সেলিমকে জানান। সেলিম ফ্ল্যাটে গিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফিরে এসে জানান, ম্যাডাম নয়, স্যার (নূরুল ইসলাম) ফ্লোরে পড়ে আছেন। ডাক্তার ডাকা দরকার। এ সময় ওই ভবনে থাকা চিকিত্সক রবিউল হালিম মুন্নাকে ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি গিয়ে পরীক্ষা করে জানান যে আরো অনেক আগেই তিনি মারা গেছেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে পুলিশ আসে। পরে পুলিশ সুমী ম্যাডাম ও সেলিমকে আটক করে নিয়ে যায়।

অ্যাপার্টমেন্টের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার দিন বিকাল ৩টা ১৩ মিনিটে ওই অ্যাপার্টমেন্টে যান শাহাবুদ্দীন নাগরী। এরপর তিনি সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে বেরিয়ে যান। আসার সময় স্বাভাবিক দেখা গেলেও চলে যাওয়ার সময় তাকে বেশ উদ্ভ্রান্ত দেখা গেছে।

গত ১৩ এপ্রিল এ্যালিফ্যান্ট রোডের ১৭০/১৭১ নম্বর ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টের ৫ম তলায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে (৪৭) মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল ব্যবসায়ীর বোন শাহানা রহমান কাজল বাদী হয়ে সুমী (৩৫) , স্ত্রীর বন্ধ শাহাবুদ্দিন নাগরী (৬০), গাড়িচালক সেলিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় নাগরী দুই নম্বর আসামি। এই মামলায় নাগরী, সুমী ও সেলিমকে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ১১০০ ঘণ্টা, ২০ এপ্রিল, ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস

শেয়ার করুন