ঘরেই শুয়ে-বসে কাটছে টেলিসামাদের দিনকাল!

জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী টেলিসামাদ। কৌতূক অভিনেতা হিসেবে তিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। সত্তর-আশির দশকের শক্তিমান এ অভিনেতা আর আগের মতো নেই। অসুস্থ হয়ে বাইরে বের হতে পারছেন না। আর তার এমন দিনে কেউ খবর নিচ্ছেন না। আর এই প্রসঙ্গে তার অভিমানটা অনেক বেড়ে গেছে তাদের ওপর যাদের সাথে জীবনের অনেকটা সময় পার করেছেন।

নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ভালো নেই। এখন কথা বলতেও কষ্ট হয়। দিনের পর দিন অসুস্থ হয়ে ঘরেই দিন কাটছে আমার। দুই বছর আগে অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিতে সবশেষ কাজ করেছিলাম। সামনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন। অনেকেই তাকে ফোন করছেন। টেলিসামাদ কি এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে কয়েকদিন ধরে অনেকেই ফোন দিচ্ছেন। কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ। আমি জানিও না কে কোন পদে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবার। কেউতো আর তেমন খবর রাখে না আমার। আমি হয়তো ভোট দিতেও যাবো না। চলতে ফিরতে যে শক্তি লাগে তাও আজ আমার নেই বলা চলে। বেশ অভিমান ও কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন এই অভিনেতা।

অভিনয়ের বাইরে লেখালিখি, গান ও ছবি আঁকার প্রতিও প্রবল ঝোঁক রয়েছে টেলিসামাদের। কয়েকদিন আগে নিজেই একটি নাটক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের কাহিনী নিয়ে একটি নাটক নির্মাণের কথা ভেবেছিলাম। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য আর কাজটা করা হয়ে ওঠেনি।

সামনে কোনো ছবিতে দেখা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বয়স হয়েছে, শরীর নিয়ম অনুযায়ী দুর্বল হয়েছে। যে কারণে চাইলেও আগের মতো যাতায়াত করতে পারি না। এরপরও একটু সুস্থ বোধ করলেই এফডিসিতে যেতে ইচ্ছে করে আমার। সেখানে গেলে পুরানো দিনের অনেক কথা মনে হয়। প্রায় ছয় শতাধিক ছবিতে আমি কাজ করেছি। জীবনের সময় কত দ্রুত চলে গেল টেরই পেলাম না।

অসুস্থতার পর চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ২০মে আমেরিকায় যান টেলিসামাদ। দীর্ঘ চার মাস নিউ ইয়র্কে অবস্থান করার পর ২৫শে সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেন। এরপর ২০১৫ সালের অক্টোবরে তার পায়ের বুড়ো আঙুলে একটি ক্ষত দেখা দেয়। ওই বছরের ১৮ই অক্টোবর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু শারীরিকভাবে আর সুস্থ হতে পারেননি।

এদিকে নাম টেলিসামাদ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা অনেক আগের কথা। বিটিভির ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন ভাই এ নামটা দিয়েছিলেন। বিটিভি থেকে একদিন আমার বাসায় চিঠি আসলো আমাকে সেখানে যেতে হবে। সেখানে উপস্থিত হতেই মামুন ভাই বললেন, তোমার নাম আজ থেকে আবদুস সামাদ বাদ দিয়ে টেলিসামাদ। সেই থেকেই আমি হয়ে গেলাম টেলিসামাদ। আরো অনেক কথা জমা আছে টেলিসামাদের মনে। তবে বার বারই বলছিলেন, কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে। তাই আর কথা বাড়াতে চাই না। আমার জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসীর কাছেও দোয়া চাইছি।

স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়, গান ও ছবি আঁকাতে টেলিসামাদ ছিলেন সমান পারদর্শি। এসব ক্ষেত্রে বাবা এবং বড় ভাই চিত্রশিল্পী আব্দুল হাই ছিলেন তার অনুপ্রেরণার উৎস। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছবি আঁকার পাঠ নিয়েছেন তিনি। তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজ অর্থাৎ বর্তমান চারুকলা বিভাগ থেকে তিনি বিএফএ পাশ করেন। তবে সব কিছুর মধ্যে অভিনয়ই হয়ে উঠেছে তার পেশা এবং নেশা।

১৯৭৩ সালে নজরুল ইসলামের নির্মিত ‘কার বৌ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। এরপরে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। যার মধ্যে সুজন সখী, দিলদার আলী, মনা পাগলা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪০ ঘণ্টা, ২১ এপ্রিল ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস

শেয়ার করুন