ন্যু-ক্যাম্পে আরেকটি ‘মিরাকল’?

বার্সেলোনার সামনে মিশন ইমপসিবল। সহজ কথায়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে যেতে হলে পাহাড় ডিঙাতে হবে কাতালানদের। অন্যদিকে মোটামুটি ‘নির্ভার’ই জুভেন্টাস। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জয় পাওয়ায় বড় বিপর্যয় না ঘটলে শেষ চারে যাচ্ছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ন্যু-ক্যাম্পে দুর্যোগের ঘনঘটা। সেমিতে যেতে হলে স্বাগতিকদের গড়তে হবে ইতিহাস; উপহার দিতে হবে আরেকটি অলৌকিক রাত। ইতালিয়ান-দুর্গ ভেদ করে ৩ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে সেমিতে যাওয়াটা দুঃসাধ্যই। তবে দলটি বার্সেলোনা বলেই সেই স্বপ্ন দেখতে পারছে।

বার্সেলোনার সামনে সমীকরণ পরিষ্কার। সেমিতে যেতে হলে জিততে হবে ৪ গোলের ব্যবধানে। ন্যু-ক্যাম্পে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায় বার্সা ও জুভেন্টাসের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি শূরু হবে। সরাসরি সম্প্রচার করবে টেন টু ও টেন ওয়ান এইচডি।

বার্সেলোনাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে শেষ ষোলোতে পিএসজির বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। প্রথম লেগে ফ্রান্স থেকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে ফিরেছিল কাতালানরা। ফিরতি পর্বে ন্যূ-ক্যাম্পে পিএসজিকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয় লুইস এনরিকের দল। কোয়ার্টারেও তাই আরেকটি অলৌকিক রাতের অপেক্ষায় বার্সার সমর্থকরা।

ওল্ড লেডি’খ্যাত জুভেন্টাসের রক্ষণ বিশ্বসেরা। জর্জিও কিয়েলিনি ও দানি আলভেজদের সরব উপস্থিতির কারণে প্রথম লেগে দারুণ আক্রমণ শানিয়েও গোল করতে পারেননি লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমাররা। তবে ঘরের মাঠে সর্বশেষ ছয় ম্যাচে ২৭ গোল করা বার্সাকে নিয়ে সতর্ক হতেই হবে ‘তুরিনের বুড়ি’দের।

ইতিহাস কিন্তু বার্সেলোনার বিপক্ষেই কথা বলছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটের ইতিহাসে আগের আটবারের চেষ্টায় কোনো দলই প্রথম লেগের ৩-০ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি। কিন্তু পিএসজি ম্যাচের আগেও তো এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল কাতালানরা; গড়েছিল নতুন ইতিহাস। এবারও নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে ন্যূ-ক্যম্পের দলটি।

ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি সাক্ষাতে সমতায় রয়েছে জুভেন্টাস ও বার্সেলোনা। আগের আটবারের সাক্ষাতে দুটি দলই তিনটি করে জয় পেয়েছে। অন্য দুটি ম্যাচ ড্র হয়। ঘরের মাঠে জুভেন্টাসের বিপক্ষে তিন ম্যাচ খেলে দুটিতে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা; অন্য ম্যাচটিতে হেরেছে।

ন্যু-ক্যাম্পে দুই দলের মধ্যকার সর্বশেষ সাক্ষাৎও কথা বলছে না বার্সেলোনার হয়ে। ২০০৩ সালে ন্যু-ক্যাম্প থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিল জুভরা। সেবার পাভেল নেদভেদ ও মার্সেলোন জালায়েতার গোলে হৃদয় ভাঙে কাতালানদের।

ন্যু-ক্যাম্পে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বশেষ ১৫ ম্যাচেই জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ১৫ ম্যাচে তিনের বেশি গড়ে ৫০ গোল করেছে কাতালানরা। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে টানা ১৬ জয়ের রেকর্ড বায়ার্ন মিউনিখের দখলে। জুভেন্টাসকে হারাতে পারলেই সেই রেকর্ড স্পর্শ করবে বার্সা। তবে শুধু জিতলেই হবে না; সেমিতে যেতে হলে গোলবন্যা বইয়ে দিতে হবে।

বার্সেলোনার সাফল্য নির্ভর করে মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ওপর। বিশেষ করে মেসি নিজের সেরা ফর্মে থাকলে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে জুভেন্টাসের রক্ষণকে। আর পিএসজির ম্যাচে জোড়া গোল করে নেইমার তো জানান দিয়েই রেখেছেন, প্রয়োজনে তিনি ছাড়িয়ে যেতে পারেন মেসিকেও। বড় ম্যাচে সুয়ারেজের গোল করার সক্ষমতা নিয়েও কারো প্রশ্ন নেই।

বার্সেলোনার যেমন মেসি-নেইমার রয়েছে, এর পাল্টা জবাব হিসেবে ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির রয়েছে পাওলো দিবালা ও গঞ্জালো হিগুয়েন। প্রথম লেগে দুটি জাদুকরি ছোঁয়ায় দুটি গোল করে বার্সার মনোবল ভেঙে দিয়েছেন দিবালা। তাকে বলা হচ্ছে ‘নতুন মেসি’। ন্যু-ক্যাম্পের আলো ঝলমলে রাতে এই আর্জেন্টাইনও জ্বলতে পারেন তারার মতো।

ন্যূ-ক্যাম্পে আসার আগ থেকেই জুভেন্টাস শিবির থেকে ভেসে আসছে প্রতিশোধের বার্তা। মুখে কেউই বলছেন না প্রতিশোধের কথা। কিন্তু বার্লিনে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ৩-১ গোলের হারের স্মৃতি এখনো দগদগে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের মনে। বার্সাকে বিদায় করে দিয়ে সেমিতে যেতে পারলে দুই বছর আগেরকার ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিতে পারবে ‘ওল্ড লেডি’রা।

ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও প্রথম লেগের ফলাফল কথা বলছে জুভেন্টাসের হয়ে। ঘরের মাঠেই যেন ‘প্রচ্ছন্ন’ চাপে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটিকে নিয়ে আশাবাদী লোকের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু ন্যূ-ক্যাম্পের আলো ঝলমলে রাতে প্রায় ৮০ হাজার সমর্থক গলা ফাটাবেন মেসিদের হয়ে। ‘ইয়েস, উই ক্যান’ কোরাশ তুলবেন কাতালান সমর্থকরা। এই কোরাশে উজ্জীবিত হয়ে বার্সা গড়তে পারে নতুন ইতিহাস।

বাংলাদেশ সময় ১৫২০ ঘণ্টা, ১৯ এপ্রিল, ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস

শেয়ার করুন