অস্থির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার

অস্থির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার

বাজার ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দাম কমছে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চাল, মসুর ডাল, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন যে, বাজারে ‘একটি’ পণ্যের দাম কমলে বাড়ে ‘দুটি’র। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার ও শান্তিনগর বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাবের জন্যই নিত্যপণ্যের দামের এ অবস্থা। গতকাল খুচরা বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের মধ্যে সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা, মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৪৬ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। যা সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের কেজিতে মানভেদে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনে চালের দাম বাড়ার বিষয়টি জানিয়েছে। কাওরান বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চাল ব্যবসায়ী বলেন, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছে। এছাড়া ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ তো বেড়েছেই। এসব কারণে চালের দাম বাড়তি।

দাম বৃদ্ধির এ তালিকায় মসুর ডাল, মুরগি ও ডিম রয়েছে। বড়দানা মসুর ডাল সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাঝারিদানা মসুর ডাল কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। ৯৭ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ছোটদানা মসুর ডাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম গত কয়েক মাস ধরেই ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে দাম কমে তা অন্য সপ্তাহে বাড়ে। গত সপ্তাহের শুরুতে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।

টিসিবি জানিয়েছে, গত এক মাসে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর গত এক বছরে তা বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়। এদিকে মাঝে ডিমের দাম বাড়তি থাকলেও কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহের মাঝামাঝিতে আবার প্রতি হালি ডিমে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে।

গতকাল খুচরাবাজারে প্রতি হালি ফার্মের লাল ডিম বিক্রি হয় ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে ভোক্তাদের জন্য সুখবর রয়েছে। তাহলো পেঁয়াজের দাম কমছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১০ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দর প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, করোনার প্রভাবে মানুষের আয় কমেছে। কর্মসংস্থানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন সময়ে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক। এতে চাপ বাড়ছে মানুষের ওপর।