ধর্ম অবমাননার আভিযোগে পাকিস্তানে লঙ্কান নাগরিককে পুড়িয়ে হত্যা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রম নিয়োজনে নতুন সংযোজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের সম্ভাবনা আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১২:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটেপ্রিন্ট মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রম নিয়োজনে নতুন সংযোজন অ- অ অ+ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রম নিয়োজনে হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন সংযোজন। মালয়েশিয়ান সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (পিআইকেএম) বিদেশি নিরাপত্তারক্ষী সংগ্রহের জন্য দ্বিতীয় উৎস দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেছে। এ লক্ষ্যে ৩ ডিসেম্বর শুক্রবার কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে পিআইকেএম এবং বাংলাদেশের সেনা কল্যাণ সংস্থার সাথে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারোয়ারের প্রত্যক্ষদর্শীতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কমডোর মোস্তাক আহমেদ, (জি), এনপিপি, পিএসসি। উল্লেখ্য, সেনাকল্যাণ সংস্থার একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়েছে যা বিদেশে শ্রম নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়ার স্থানীয় একটি সংবাদ সংস্থাকে পিআইকেএম সভাপতি রামলি ইউসুফ বলেন, সেনাকল্যাণ সংস্থা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিষ্ঠান। মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশে ভবিষ্যত নিরাপত্তারক্ষী প্রেরণের লক্ষ্যে চিহ্নিতকরণ এবং প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে প্রথম স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদ শেষে আবার নবায়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বাংলাদেশ, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। রামলি বলেন, পিকেআইএম থেকে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সুপারিশ করেছি। কারণ আমরা সেখানে ২০১৮ সালে প্রথম গিয়েছিলাম। সেই সময়ে, আমরা তাদের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। আমরা (পিআইকেএম) তাদের ট্রেনিং স্কুল দেখতে গিয়েছিলাম, আমরা দেখেছিলাম যে তারা কীভাবে তিন মাস প্রশিক্ষণ পেয়েছে, আমরা অনুভব করেছি যে তারাই সেরা বিকল্প। আমরা যে শেষ এমওইউ স্বাক্ষর করেছি তা শেষ হয়ে গেছে, তাই শুক্রবার আমরা বিদেশি কর্মী (সিকিউরিটি) আনার সাম্প্রতিক শর্তগুলো পুনর্নবীকরণ করেছি, যা সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। রামলি আরও বলেছেন, পিআইকেএম সরকারকে অনুমোদনগুলো ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ গত বছর কভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে সিকিউরিটি গার্ড নিজে দেশে ফিরে যাওয়ার কারণে এখন ঘাটতি রয়েছে। নেপালি নিরাপত্তারক্ষীদের যাদের মালয়েশিয়ায় ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই মেয়াদ শেষে বাড়িতে ফিরে গেছে এবং সমস্ত অভিবাসী শ্রমিকদের নতুন নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং আরও খারাপ হয়েছে। রামলি বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪০ হাজার নেপালি গার্ড ছিল। কিন্তু এখন ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে নেমে এসেছে। সুতরাং, খালি কোটা পূরণ করার জন্য আমরা চাই সরকার বাংলাদেশি গার্ড আনার অনুমতি দিক। এর আগে ২৫ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষেবা শিল্প ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজাহ জয়নুদিন বলেছেন, নিরাপত্তা খাতে নতুন সোর্স কান্ট্রি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মন্ত্রণালয় অবশ্যই বিষয়টি অধ্যয়ন করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবে। এ ছাড়াও দেশটিতে যাদের আনা হবে সেসব নিরাপত্তা রক্ষীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণে মন্ত্রণালয় একটি সুরক্ষা পরিষেবা শিল্প প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করবে। একাডেমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্যান্য সংস্থা যেমন রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ, পিপলস ভলান্টিয়ার কর্পস (রেলা) এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের সাথে সহযোগিতা করবে। দেশটিতে নিরাপত্তা কর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্রের অপব্যবহার এবং অবৈধ অভিবাসী নিয়োগের কারণে ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরে মোট ৬৬টি নিরাপত্তা এজেন্সির লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। বাতিল এ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের আগে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করার আহ্বান জানান তিনি। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা এককভাবে নেপালিদের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরির অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করেন দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিরা বিভিন্ন ধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকলেও সিকিউরিটি গার্ডের চাকরির সুযোগ ছিল একমাত্র নেপালের। কিন্তু দেশটির সরকার নিরাপত্তা সেবা খাতে শূন্যপদ পূরণের জন্য বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনকে নতুন সোর্স কান্ট্রি দেশ হিসেবে দেখার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনা কল্যাণ সংস্থা বাংলাদেশের অন্যতম প্রফেশনাল, দক্ষ ও বিশ্বস্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তারা যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে অভিবাসনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা সংযোজন করবে। পাশাপাশি সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে তুলে শুধু মালয়েশিয়া নয়, অন্যান্য দেশেও উত্তমরূপে প্রশিক্ষিত সিকিউরিটি গার্ড সরবরাহ করতে পারলে বাংলাদেশের নাগরিকদের যেমন কর্মসংস্থান হবে তেমনি অর্থনীতির জন্য আরেকটি খাত সংযোজন হবে।
ইন্টারনেট সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার আভিযোগে বর্বরভাবে এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পিটিয়ে মেরে উন্মত্ত জনতা ওই লোকের মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এ ঘটনা পাকিস্তানের জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরবর্তী শিয়ালকোট শহরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামী আয়াতযুক্ত একটি পোস্টার ছিঁড়েছিলেন অভিযোগে শ্রীলঙ্কার ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে এলাকাবাসী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভুক্তভোগীর ওপর একদল জনতাকে আক্রমণ করতে দেখা যায়। এসময় তারা ধর্ম অবমাননাবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। আরেক ভিডিওতে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। এসময় ওই ব্যক্তির গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীদের কারও মধ্যেই পরিচয় গোপনের ইচ্ছা দেখা যায়নি, এমনকি কেউ কেউ জ্বলন্ত মরদেহের সঙ্গে সেলফিও তুলেছেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভির খবর অনুসারে, নিহত ব্যক্তির নাম প্রিয়ান্থা কুমারা। তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন।

জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ওমর সায়িদ মালিক জানান, কারখানার কর্মীরাই প্রিয়ান্থাকে পিটিয়ে গুরুতম জখম করেন, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। উন্মন্ত কর্মীরা এসময় কারখানায় ভাঙচুর চালায় এবং রাস্তা বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এক টুইটে তিনি বলেছেন, শিয়ালকোটে কারখানায় ভয়াবহ হামলা এবং শ্রীলঙ্কান ব্যবস্থাপককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা পাকিস্তানের জন্য লজ্জার দিন। আমি নিজে তদন্তের তত্ত্বাবধান করছি যেন কোনো ভুল না হয়। দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পাঞ্জাব পুলিশ এক টুইটে জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তারা এ পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি লোককে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে ‘মূল সন্দেহভাজনও’ রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে লঙ্কান গণমাধ্যম নিউজ ফার্স্ট জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণ এবং সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এক জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছেন, এ নিয়ে তারা লঙ্কান কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন, দোষীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সূত্রঃ জিও টিভি