প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা পাওয়ার সুবিধায় এবার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মহাখালীর ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা দিবস, ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাদান শুরুর আট মাস পর করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকানো লড়াইয়ে গত অক্টোবরে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। তবে স্কুলে স্কুলে না গিয়ে একটা কেন্দ্রের আশপাশের অন্তত পাঁচটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছিল। এতে টিকাদানে সমস্যা হচ্ছিল শিক্ষার্থীদের।

জাহিদ মালেক বলেন, এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেসব স্কুলে করোনাভাইরাসের টিকাদান কেন্দ্র নেই, আমরা কেন্দ্র করতে পারি নাই, ওই স্কুলে আমাদের টিম চলে যাবে, সেখানে টিকা দেবে। খুব শিগগিরই তা বাস্তবায়ন শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনিয়মিতভাবে ও যত্রতত্রভাবে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ, হাঁস-মুরগির ফার্ম বা মাছের ফার্মে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার, গবাদি পশুর খাদ্যে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগসহ নানাভাবে আমাদের দেহে চিকিৎসার অতি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স দেখা যাচ্ছে যা অত্যন্ত এলার্মিং। কিছু অসাধু ফার্মেসি বা ওষুধ কোম্পানিও এগুলো উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মানুষকে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এটি একটি অপরাধমূলক কাজ। ইতিমধ্যেই আমরা বেশকিছু ফার্মেসি ও ওষুধ কোম্পানি বন্ধ করে দিয়েছি। আগামীতেও এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। নকল ওষুধ বিক্রি বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করলে সেক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠান দোষী হিসেবে চিহ্নিত হবে ও শাস্তি ভোগ করবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, করোনার দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব মানুষের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ কোটি ডোজ ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। হাতে ২ কোটির বেশি ভ্যাকসিন আছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। দেশের মানুষের পাশাপাশি স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বস্তিবাসীদেরকেও ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এসব কারণে দেশ এখন নিরাপদ আছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল আছে, স্কুল-কলেজ খোলা রয়েছে, ব্যবসা বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় চলে এসেছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগস সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, আইসিডিডিআরবি প্রতিনিধি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউএসএইডের প্রতিনিধি, প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাবৃন্দসহ দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা দেশে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধে কাজ করতে সর্বসম্মতিক্রমে একাত্মতা প্রকাশ করেন।