ফটিকছড়িতে হালদার চৌধুরীঘাট সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী

Chittagong

মোঃ ইফতেখার (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ফটিকছড়ি-সীতাকুণ্ড বারৈয়ারঢালা সড়কের আজিম চৌধুরী ঘাটে হালদা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি পাইলের নিচ অংশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় এটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সেতুর ওপর কোনো ভারী যানবাহন উঠলে সেটি থরথর করে কেঁপে ওঠে। গত ২ বছর থেকে সরকারিভাবে হালদার বালু মহালের ইজারা বন্ধ হওয়ার আগে সেতুটির উভয়পাশ থেকে অব্যাহতভাবে বালু তোলা এবং ভাঙনের কারণে সেতুর পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে। বর্তমানে ইজারা বন্ধ থাকলেও নৌকায় করে রাতে সেতুটির ভাটি থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা করণে এই অবস্থা।

এ ব্যাপারে হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, সেতুটি রক্ষায় সে স্থান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায় একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারিভাবে হালদার ইজারা বন্ধ রয়েছে। চোরের দল রাতের আঁধারে নৌকায় করে বালু তোলার ফলে সেটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফটিকছড়ির সঙ্গে সীতাকুণ্ড ও প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য হাজারিখিরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষায় এবং লক্ষাধিক জনগণের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বিগত সময়ে সেতুটির নিচ থেকে এভাবে বালু তোলার কারণে পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদি সেটি ধসে পড়ে তাহলে সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, ভুজপুর, সীতাকুণ্ডসহ বেশকিছু এলাকার লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন। সেতুটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফিন বলেন, গত বছর থেকে হালদার সব বালু মহালের ইজারা বন্ধ রয়েছে। আগে ইজারা থাকায় তখন সেতুটির উভয়পাশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলী আফাজ চৌধুরী জানান, বর্তমানে হালদার ভাঙন মেরামতে সার্ভে চলছে, কাজও শুরু হয়েছে। সেতুটি রক্ষায় হালদার উভয়পাশের বাঁধের কাজ করা হবে।

সর্বশেষ সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সেগুন বড়ূয়া সাংবাদিক মোঃ ইফতেখার কে বলেন, ফটিকছড়ি-সীতাকুণ্ড বারৈয়ারঢালা সড়কের আজির চৌধুরী ঘাট এলাকায় হালদার ওপর নির্মিত সেতুটির পিলারের নিচ থেকে বালু তোলার কারণে মাটি সরে গেছে। সেতুটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।