মশার ঘুম পাড়ানোর ওষুধ :রিজভী

সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকা দিয়ে যে ওষুধ নিয়ে এসেছে সেটা হচ্ছে মশার ঘুম পাড়ানোর ওষুধ, এটি ছিঁটালে মশা কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকবে ,বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন।বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু সচেতনতায় রাজধানীর বেইলি রোডে লিফলেট বিতরণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‌প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে, ডেঙ্গুর জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছেন। কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? আপনার সিটি করপোরেশন কী ব্যবস্থা নিয়েছে? সিটি করপোরেশন তো এখানে অনেক ধরনের কথা বলেছে, তামাশামূলক কথাবার্তা বলেছে। কারণ তাদের এটা ফাইট করার জন্য মশা মারার যে ওষুধগুলো দরকার সেটা ছিল না। তারা কোটি কোটি টাকা দিয়ে যে ওষুধ নিয়ে এসেছে সেটা হচ্ছে- মশার ঘুমের ওষুধ।

ডেঙ্গুর মহামারীতে সরকার একেবারে উদাসীন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গণবিরোধী সরকার এই ধরনের চরিত্র ধারণ করতে পারে। সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়নি, বরং এখনো মানুষের জীবন-মৃত্যু নিয়ে খেলা করছে। জনগণকে আমরা সব দিক থেকে সচেতন করার চেষ্টা করছি, আমরা মানুষ বলছি যে আপনারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আগেই সর্তক থাকুন এবং এজন্য কী কী করণীয় সেটা ডাক্তাররা সুস্পষ্টাভাবে বলেছেন, সেটাই আমরা এই লিফলেটের মধ্যে বলেছি।

ডেঙ্গু নিয়ে গণমাধ্যম আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সরকার প্রধানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যারা ব্যর্থ হয় তাদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, যারা জনকল্যাণের মধ্যে থাকে না তাদের অসত্যের ওপর, মিথ্যার ওপর, বিভ্রান্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ নিজেরাই হচ্ছে ভোটারবিহীন একটি সরকার। এই কারণে তারা মিডিয়ার বিরুদ্ধে বলছে। গণমাধ্যমই একমাত্র প্রতিচ্ছবি, একমাত্র আয়না, যেখানে সমাজের নানা অসঙ্গতি ফুটে উঠবে। এটাই হচ্ছে প্রকৃত গণমাধ্যমের বৈশিষ্ট্য। সেই কাজগুলো গণমাধ্যম করছে। যখন সত্য উচ্চারিত হবে তখন মিথ্যাবাদীরা ভয় পাবে, এই ভয় থেকে তারা (সরকার) মিডিয়ার বিরুদ্ধে বলেছে।

রিজভী বলেন, আমরা সবসময় বলি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটা সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। আপনারা দেখছেন, আমাদের বন্যা উপদ্রুত এলাকায় মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে যেতে দেয় না। ওরা মনে করে যে, তাদের এটাতে ক্ষতি হয়ে থাকবে, বিরোধী দল আসলে তাদের ক্রেডিভেলিটি থাকবে না। এই ভয় থেকেই তারা এই কাজ করে। তাদের যে ফাঁকি যেটা আছে, তাদের যে ব্যর্থতা আছে, এই ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তারা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চায় না।

রিজভী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় তা মহামারিতে রূপ নিয়েছে। খালেদা জিয়া কারাবন্দি না থাকলে জনসচেতনতায় মানুষের ঢল নামতো। তারপরও বিএনপি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে সচেতনতামূলক অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জাসাসের বাবুল আহমেদ, আহসানউল্লাহ চৌধুরী, মীর সানাউল হক, শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, জাহিদুল আলম হিটু, জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ।