মুখোমুখি জিনপিং-মোদি: শত্রুতা না ঘনিষ্ঠতা!

এশিয়া মহাদেশের শক্তিশালী দুইটি দেশ চীন আর ভারত। বাস্তবক্ষেত্রে একে অন্যের ঘোর শত্রু। বিশেষ করে এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কঠোর এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত তারা। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন আধিপত্য বিস্তার করে অগ্রসর হচ্ছে। এ নিয়ে ভারতে উদ্বেগের শেষ নেই। এ জন্য তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করে চীনের প্রভাবকে কাটিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত। এমন বিশ্লেষণ সমাজবিজ্ঞানীদের। কিন্তু যতই প্রতিযোগিতা থাক না কেন দুই দেশের মধ্যে, যখন মুখোমুখি হন দেশ দুটির রাষ্ট্রপ্রধানরা তখন তাদের মধ্যে দৃশ্যমান হয় এক আন্তরিকতা।

এটা কূটনীতির একটি আচরিত বৈশিষ্ট্য। সেই বৈশিষ্ট্য নিয়ে শুক্রবার মুখোমুখি হয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে কথা হয়েছে। এ নিয়ে চীনের মিডিয়াও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলেছে। বলা হয়েছে, দুই নেতা তাদের ব্যক্তিগত ‘কেমিস্ট্রি’ নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এশিয়ান সেঞ্চুরি অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা একত্রে কাজ করার গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন বলে বলা হয় চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায়। তবে ভারত ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পশ্চিমা অনেক দেশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে চীনের মিডিয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালিত গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, পশ্চিমারা বিশ্বাস করে যে চীন-কেন্দ্রীক সেঞ্চুরি হতে যাচ্ছে। তাই তারা এশিয়ান সেঞ্চুরি নিয়ে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু চীন, ভারত ও আঞ্চলিক অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়ন ছাড়া প্রকৃত এশিয়ান সেঞ্চুরি অর্জিত হবে না বলে বহু আগে বলে গিয়েছেন চীনের প্রয়াত নেতা ডেং সিয়াওপিং।

শি জিনপিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে চীন ত্যাগ করার পরই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর বিশেষ করে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চীনের গ্লোবাল টাইমস মূলত ভারতের কড়া সমালোচনা করে থাকে। কিন্তু এবার তারা ভিন্ন ভাষায় কথা বলেছে। এতে বলা হয়েছে, কিছু পর্যবেক্ষক বলেন, একটি সুযোগের জন্য অন্য একটি সুযোগ হারানো কখনোই উচিত হবে না বেইজিং ও নয়া দিল্লির।

এটা হতে পারে তাদের অতিরঞ্জিত করে বলা। তবে এর মধ্যে বোধোদয় আছে। এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, যখন এই দুটি দেশ তাদের মধ্যকার মতভেদ কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং আন্তরিক সহযোগিতার দুয়ার খুলতে পারবে, তখনই তারা এমন একটি বার্তা দিতে পারবে যে, তারা সত্যিকার এশিয়ান সেঞ্চুরির দিকে অগ্রসর হতে পারবে।
:মানবজমিন