সরকারের ১০ বছরে ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিপুল অবদান

গত ১০ বছরে দেশে ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে সরকার। হজ থেকে শুরু করে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়া, মডেল মসজিদ নির্মাণ, ইমাম-মোয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন উল্লেখযোগ্য। হিন্দুধর্মের জন্য গণশিক্ষা কার্যক্রম, ২০০টি গীতাশিক্ষা কেন্দ্র চালু, মন্দিরের জমি উদ্ধারসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাম্বলীদের উন্নয়নেও কাজ হয়েছে।

২০১৬ সালে প্রণয়ন করা হয় জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি। এর ফলে পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে হাজিদের হয়রানি কমেছে।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সনদ দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিয়ে এরই মধ্যে ২ হাজার ২০ জনকে সরকারি পর্যায়ে আরবি গণশিক্ষা মাদ্রাসায় চাকরি দিয়েছে সরকার। গঠন করা হয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন ও ইমাম মোয়াজ্জিম কল্যাণ ট্রাস্ট।

এছাড়া সারা দেশে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের প্রথম ধাপের কাজ চলছে। একই সাথে ১ হাজার ১০টি দারুল আকরাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বিজ্ঞান ও আইসিটি অন্তর্ভূক্ত করা বড় সাফল্য এই সরকারের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল জানান, ‘আমাদের দেশের ধর্ম শিক্ষায় রাজনৈতিক ইসলাম স্থান দখল করে নিয়েছিল। এই অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষার অংশ হিসেবে আইন পাশ করেছেন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের মত দেশে যে আলেম ওলামাদেরও প্রয়োজন সে ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি ভিত রচনা করেছেন।’

গত ১০ বছরে হিন্দু ধর্মের উন্নয়নে নানা কাজ করেছে সরকার। সারাদেশে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেদখল হওয়া দেড় বিঘা জমি উদ্ধার এবং সারা দেশে মন্দিরের নিরাপত্তা প্রদান করেছে বর্তমান সরকার।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের অবসরপ্রাপ্ত পুরোহিত রতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের বাচ্চারা আগে গীতা শিক্ষা পেত না, কিন্তু এখন তা আমরা সরকারের মাধ্যমে চালু করেছি। আগে যেমন মুর্তি ভাঙ্গা, পুড়িয়ে দেয়া, মন্দির ভাঙ্গা এ ব্যাপারগুলো ছিল, এখন সরকার এসব বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেদখল হওয়া দেড় বিঘা জমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়ে দিয়েছেন।’

এছাড়াও বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্যও নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছে করকার। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্যাগোডা ভিত্তিক শিক্ষার জন্য ৩ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বরাদ্দ রাখা হয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মের নানা উন্নয়ন ও বিকাশের জন্যও।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে