২০ টাকায় ইলিশ!

‘২০ টাকা, ২০ টাকা, ইলিশ নেন ২০ টাকা’।

বৈশাখের আগে আগে ইলিশের চাহিদা আর দাম যখন তুঙ্গে তখন এই টাকায় রূপালী মাছ পাওয়ার কথা না। তাহলে কেন এই হাঁকডাক? অবিশ্বাস নিয়ে তাকাতেই দেখা মিলল, ছোট আকারের ইলিশ কেটে ফালি করে বিক্রি হচ্ছে। আর এই এক টুকরোর সর্বনিম্ন দাম ২০ টাকা।

রাজধানীর জুরাইন রেলগেইট কাঁচাবাজারে এই দৃশ্যে দেখা মিলল।

বছরের এই সময়ে ইলিশ শিকার, পরিবহন, বিক্রি সবই নিষিদ্ধ। কারণ, এখন জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে ইলিশের নাম জড়িয়ে গেছে। যতই নিষিদ্ধ হোক, বাজার, সুপার শপে অবাধেই বিক্রি হচ্ছে এই মাছ। তবে দামটা অন্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ, তিন গুণ, চার গুণ।

এর মধ্যে ২০ টাকা এক টুকরো ইলিশ কীভাবে পাওয়া সম্ভব, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠাটাই স্বাভাবিক। এক বিক্রেতা জানালেন, হিমাগারের ইলিশ, তাও আবার ছোট আকারের। এ কারণে ২০ টাকায় এক টুকরো দেওয়া যায়।

জুরাইন ছাড়াও ধুপখোলা মাঠ, বৌ বাজার, যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়তে পাওয়া যাচ্ছে কাটা ইলিশ।  ইলিশের আকার একটু বড় হলে দাম ৫০ টাকা।

যাদের আস্ত ইলিশ কেনার স্বামর্থ্য নেই তারা টুকরো করা ইলিশ কিনছেন। এমনই একজন রাহেল খাতুন। তিনি বলেন, ‘পোলা-মাইয়ারা বায়না ধরছে বৈশাখে ইলিশ খাইব। কিন্তু পুরা মাছ কেনার টাহা নাই। তাই ৬০ টাহা দিয়ে তিন পিস ইলিশ কিনলাম।’

একই কথা জানালেন, আলমবাগের বাসিন্দা দিনমজুর মজিবুর। বলেন, ‘বৈশাখ আইলে ইলিশের আহাল লাগে। তখন এই মাছ কিননই যায় না। বাজারে আইয়া দেখলাম পিস করই ব্যাচতাছে। দুই পিস কিনছি।’

জুরাইন কাঁচা বাজারের মাছ বিক্রেতা, শাহেদুল  বলেন,‘মাঝারি সাইজের যে ইলিশ কয়দিন আগে চার শ থেকে ছয় শ টাকায় বেঁচতাম সেই ইলিশ এখন বেঁচতাছি এক থেকে দুই হাজারে। এত দাম দিয়ে অনেকেরই মাছ কিনার স্বামর্থ্য নেই। তাই ইলিশ মাছ কাইটা বেঁচতাছি। এতে লাভও বেশি, বিক্রিও হয় ভালো।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে  এক হাজার টাকা থেকে পনের শ টাকার মধ্যে।  এই সময়ে একটি বড় ইলিশের দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকাও হাঁকছেন বিক্রেতারা।