ঢাকাতে আলোচিত ৩ ফিট

১৬১০ সালে ঢাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলেও এর মধ্যে অনেকবার সুবে বাংলার রাজধানী পরিবর্তন হয়। কয়েক বছর পরই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার নিয়োগ হাওয়ার পর শাহ্‌ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেন। কিন্তু ১৬৬০ সালে শাহ্‌ সুজার পতন ঘটে, মীর জুমলা আবারও ঢাকাকে রাজধানীর মর্যাদা ফিরিয়ে দেন। তাদের সেই ঢাকা এখন জনসমুদ্রের শহর হিসেবে পরিচিত। ঢাকা শহরকে ২টি করপোরেশনে বিভক্ত করা হয়েছে। সেই সিটি করপোরেশনের মধ্যে কয়েকটি স্থান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তার মধ্যে তিন ফিট অন্যতম।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় যে, রাজধানীর শেরে-বাংলা এলাকার ৬০ ফিট, নতুন বাজার থেকে পূর্ব দিকে ১০০ ফিট, কুড়িল বিশ্ব রোডের অপর দিকে ৩০০ ফিট নামের জায়গাগুলো মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সন্ধ্যা হলেই মানুষ সেখানে ভিড় করেন। খোলামেলা জায়গা ও সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য মানুষ এই স্থানগুলো বেছে নিয়ে থাকেন। সেই স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ছোটখাটো পর্যটনস্থান। অবসর সময় পেলেই মানুষ এই স্থানগুলোতে ঘুরতে যায়। বিনোদনের স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ফাস্টফুডের ব্যবসা।

কোটি মানুষের শহর ঢাকা। এখানকার নাগরিক জীবনে প্রতিনিয়ত ঝুট ঝামেলা লেগেই থাকে। নিত্যদিনের যানজট এবং কোলাহল এ শহরের মানুষদের সঙ্গী। এর মধ্যেই মানুষ একটু শান্তির পরশ খুঁজে বেড়াতে চায়। এরকমই একটি স্থান রাজধানীর পূর্বাচল বসুন্ধরা সংলগ্ন ৩০০ ফিট নামে একটি সড়ক। যেখানে রয়েছে অনেক খোলামেলা ও প্রচুর খালি জায়গা।

প্রতিনিয়ত মানুষ সেখানে ঘুরতে যাচ্ছে। শুধু রাজধানীবাসী নন রাজধানীর বাহির থেকেও মনোরম এই সড়কটিতে একটু শান্তির পরশ নিতে আসছেন।

হাসান ও দাউদ নামের দুই বন্ধু এখানে এসেছে ফাস্ট ফুডের খাবার খেতে। তারা বলেন, ‘ঢাকার নামী-দামী রেস্টুরেন্টগুলো খাবারের মান দেখিয়ে অনেক দাম রাখেন। কিন্তু এখানে যে খাবার পাওয়া যায় তা দামী রেস্টুরেন্টের চেয়ে স্বাদে কোনো অংশে কম নয়। দামেও অনেক কম। আমরা সুযোগ পেলেই এখানে ঘুরতে আসি। আর বিভিন্ন খাবার খেয়ে থাকি।’

খোলামেলা পরিবেশে তা উপভোগ করার মতো আড্ডাবাজি কে না চায়। এলেন, খেলেন, আবার আড্ডাও হলো। পেটপূজা সেরে প্রশস্ত রাস্তার কিনারা ধরে খোলা হাওয়াও গায়ে মাখিয়ে নিলেন। এমন সুযোগ নিশ্চয় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিতে সম্ভব নয়! আবার যারা রেস্টুরেন্টে যেতে চান না, তাদের জন্যও আছে টং দোকান। যেখানে উন্মোক্ত আকাশের নিচে চা পান করেও আড্ডা জমিয়ে তোলা যায়।

নতুন বাজার থেকে পূর্ব দিকে মাদানি এভিনিউ এলাকায় ১০০ ফিট অবস্থিত। সেখানে বিভিন্ন নাটকের দৃশ্য ধারণ করা হয়। নতুন বাজার থেকে মাত্র ১০ টাকা লেগুনার ভাড়া দিয়ে সেখানে যাওয়া যায়। জায়গাটিও দেখতে খুব সুন্দর। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। এই স্থানটিকে ঘিরে গড়ে উঠছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। তার মধ্যে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি অন্যতম।

অটোরিক্সা চালক মমতাজ উদ্দিন বলেন, আগে এই স্থানে জলাশয় ছিলো। মাদানি সড়কটি হওয়ার পর একটি ব্রিজ তৈরী করেছে। এই ব্রিজের কারণে মানুষ এখানে বিকালে বেশি ঘুরতে আসে। আগে যা আয় করতাম এখন তার দ্বিগুন করে থাকি। অফিস ছুটির দিন এখানে মানুষের মিলন মেলা হয়। অনেকে পরিবার নিয়ে এখানে আসেন। ঢাকা শহরের মধ্যে এটাই একটি খোলামেলা জায়গা ।

শেরে বাংলা এলাকার শিশু মেলা থেকে একটু ভিতরে ৬০ ফিট অবস্থিত। সেখানে মানুষ ঘুরতে না আসলেও চক্ষু হাসপাতাল এবং মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর ও নির্বাচন কমিশনের অফিস থাকার কারণে এখানে অনেক মানুষের আগমন গঠে। ঢাকা শহরের মধ্যে মানুষের পরিচিত একটি নামের মধ্যে ৬০ ফিট অন্যতম।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পিএস