ফাইনালে ঢুকে পড়া সেই চার অনাহূত কারা?

ম্যাচের ৫১ মিনিট। ক্রোয়েশিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে পিছিয়ে আছে ২-১ গোলে। মরিয়া হয়ে গোল শোধের চেষ্টা করছেন মদ্রিচরা। এমন সময় মাঠে হঠাৎ করে ঢুকে পড়লেন চার জন। টিভি ক্যামেরা অবশ্য তাদের ওপর ফোকাস করল না, সেটা সম্প্রচারের আইন বিরোধী। কিন্তু দেখা গেল, পুলিশ এসে চার জনকেই ধরে নিয়ে গেছেন। কিন্তু একই রকম স্যুট টাই পরে পুলিশের বেশে কারা ঢুকেছিল মাঠে? বিশ্বকাপের বজ্র আঁটুনি নিরাপত্তা বলয় তারা ফাঁকিই বা দিল কীভাবে?

ফেসবুকে পরে রাশিয়ার ক্রেমলিন বিরোধী একটা গ্রুপ ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। পুসি রায়ট নামের এই গ্রুপ অনেক দিন ধরেই রাজিয়ার চলমান পুঁজিবাদ ও সরকারের বিভিন্ন অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছে। ২০১২ সালে একবার গির্জায় ঢুকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল তারা। সেই গির্জায় ওই সময় ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। সেবার অনেককেই গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল। কালও পার পাননি তাদের কেউ, সবাইকেই আটক করা হয়েছে। দুইটি নির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে তাদের বিরুদ্ধে। এক, মাঠে বিনা অনুমতিতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা। দুই, পুলিশের পোশাক বিনা অনুমতিতে প্রকাশ্যে পরা। দুইটি অপরাধের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা আছে। প্রথম অপরাধের জন্য তিন বছরের জন্য রাশিয়ার সব স্টেডিয়াম থেকে নিষিদ্ধ হতে পারেন তারা।

কিন্তু হুট করে মাঠে ঢুকে কেন প্রতিবাদ করতে গেল তারা? আর তাদের পরিচয়ই বা কী? পুসি রায়ট নামের এই গ্রুপ দাবি করেছে, রাশিয়ায় এখন বাক স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। ২০১৫ সালে ইউক্রেন ও রাশিয়ার টানাপোড়েনে থাকা ক্রিমিয়ার একটা অফিসে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন চিত্র নির্মাতা অলেগ সেন্তসভ। সেজন্য তাঁকে ১৫ বছর কারাদণ্ড হয়েছে। পুসি রায়ট দাবি করেছে, তার নিঃশর্ত মুক্তি। সেই সঙ্গে সকল ধরনের রাজনৈতিক বন্দিদেরও মুক্তি দাবি করেছে। বলেছে, অনলাইন থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে হবে।

কিন্তু তার আগে তো তাদের আটকা থেকে মুক্তি পেতে হবে!

বাংলাদেশ সময়ঃ ১৬১৮ ঘণ্টা, ১৬ জুলাই, ২০১৮
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে