দেশে বন্দি ৪৯৫ বিদেশি

বিভিন্ন দেশের ৪৯৫ জন নাগরিক বর্তমানে বাংলাদেশে বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে মানবাধিকার কমিশনের ‘হিউম্যান ট্রাফিকিং: রিপেট্রেশন অব ভিকটিম’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বন্দিদের মধ্যে মাত্র ৫৭ জন সাজাপ্রাপ্ত। এছাড়া ৮৬ জন মুক্তি পেলেও কোনো দেশ তাদের নিতে রাজি হয়নি। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা জেলখানায় রয়েছে।’

মানব পাচারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে আমাদের দেশ থেকে শত শত মানুষ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গিয়েছিল। এরপর ৬০০ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে ঢুকে পড়েছে বলে আমাদের জানিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তবে এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এখন যারা পাচার হচ্ছে তাদের ৮০ শতাংশই রোহিঙ্গা।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানব পাচার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের প্রতিটি জেলায় কমিটি করা হয়েছে। আর এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিচক্ষণতার সঙ্গে মনিটরিং করছে। দেশে মানব পাচার প্রতিরোধে প্রত্যেক জেলায় পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় আমাদের দেশ থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেত মানুষেরা। কিন্তু এখন আমাদের সে চিন্তা নেই, উল্টো আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। নানা সমস্যার মাঝেও তিনি সবাইকে আপন করে নেন। যে কারণে সারাবিশ্ব তাকে মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধি দিয়েছে।’

বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দেশে আসার পরও মুক্তি না পাওয়া বাদল ফরাজির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের আদালতে বিনা অপরাধে বাদল ফরাজীকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ঘোষণার পর বাংলাদেশে আনা হলেও তিনি এখনও কারাগারে বন্দি। কিন্তু বাদল ফরাজির বিষয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। এখন মাত্র একটাই পথ খোলা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমা করেন তাহলে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- আইওএম বাংলাদেশের প্রধান গিওরগি গিগাউরি, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, অ্যাটসেক ইন্ডিয়ার ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর মানবেন্দ্র নাথ মণ্ডল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক প্রমুখ।