রুপাসহ ৬ জন প্রশ্নফাঁস মামলায় কারাগারে

রুপাসহ ৬ জন প্রশ্নফাঁস মামলায় কারাগারে
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার ধুপচাঁচিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপাসহ ৬ জনকে পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে। আসামিদের এ আবেদনসহ ঢাকা সিএমএম আদালতে তোলা হয়। কিন্তু আমলি আদালতের সময়সীমার পর আসামিদের আদালতে হাজির করায় তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জানুয়ারি গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানির দিন ঠিক করেন।

কারাগারে যাওয়া অন্য ৫ আসামি হলেন- মাহবুবা নাসরীন রুপার সহযোগী আল আমিন, আজাদ রনি, রাকিবুল হাসান, নাহিদ হাসান ও রাজু আহম্মেদ। গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে তোলা হয়। আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে গতকাল তাদের প্রশ্নফাঁসের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদসসহ আদালতে আনা হয়।

রমনা থানায় দায়ের হওয়া প্রশ্নফাঁসের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আলী।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অধীন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ৫৫০টি অডিটর পদে নিয়োগের জন্য গত ২১ জানুয়ারি বেলা ৩টা থেকে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত ৭০ নাম্বারের এমসিকিউ পরীক্ষা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, কিছু ব্যক্তি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল অ্যাপস এবং ব্যক্তি পরিবর্তন করে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, উত্তর বা সমাধান সরবরাহসহ অসদুপায় অবলম্বন করতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

জানা যায়, বন্ধু রোমানের মাধ্যমে ৭ বছর আগে প্রশ্নফাঁসে জড়ান বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃৃত সদস্য রুপা। দুই বন্ধু প্রশ্নফাঁস করে নিয়োগ পরীক্ষায় বসতেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে দিতেই এক সময় নিজেরাই প্রশ্নফাঁসের হোতা হয়ে যান। এক সময় প্রশ্ন ফাঁস করে রেলওয়েতে চাকরি হয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের ছেলে রোমানের। কিন্তু রুপা প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি রাজনীতি ও তদবির বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হঠাৎ করেই গত বছর সরকারি চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ওঠেন রুপা। একের পর এক চাকরির পরীক্ষা দিতে থাকেন। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া রুপার সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে মাসকয়েক আগে। প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের অডিটর পদে নিয়োগ পরীক্ষাই ছিল তার সরকারি চাকরির জন্য শেষ পরীক্ষা।