চকবাজারে নিহত ৮ জনের মরদেহ হস্তান্তর

চকবাজারের আগুনে পুড়ে নিহত হওয়া ১১ জনের মধ্যে ৮ জনের মরেদহ হস্তান্তর করা হচ্ছে আজ। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৮ জনের মধ্যে গার্হস্থ অর্থনীতি কলেজের ছাত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টি ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানজিল হাসান রোহানের মরদেহ রয়েছে। বাকি ৬ জন হলেন, নুরুজ্জামান হাওলাদার, আহসান উল্লাহ, সালেহ আহমেদ, নাসরিন জাহান,  এনামুল হক ও শাহীন আহমেদ। ঢাকা জেলা প্রশাসন নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করছে এই মরদেহ। বাকি তিনজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে আগামীকাল।

এর আগে ডিএনএ পরীক্ষায় নিহতদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় শনাক্ত হবার খবর জানায় সিআইডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি রেজাউল হায়দার। তিনি জানান, ৪৮ জন দাবীদারের ডিএনএ নমুনা থেকে এ প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই পুরুষ, বাকি ২ জন নারী। দুই নারীর নাম ফাতেমা জোহরা ও নাসরিন জাহান। 

এছাড়া, দ্বিতীয় ধাপে ৫টি অজ্ঞাত মৃতদেহের হাড় থেকে ডিএনএ পরীক্ষার কাজ চলছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে। ৬৭টি মৃতদেহ থেকে এ পর্যন্ত ২৫৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

গেল ২০শে ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টা সড়কে ওয়াহেদ ভবনে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। সেখান থেকে গ্যাসের সিলিন্ডারে বিস্ফোরণের মাধ্যেম মুহূর্তেই সেই আগুন ছড়িয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারে বিস্ফোরণ ঘটে। ওয়াহেদ ভবনে রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম থাকায় আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে। আগুনে পুড়ে যায় চকবাজারের ওই এলাকার অন্তত পাঁচটি ভবন।

৩৯টি ইউনিটের চেষ্টায় ৯ ঘন্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া তিনটি হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটিয়ে সহায়তা করে বিমান বাহিনীও। সেদিনের এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত হন ৭১ জন।