চলে গেলেন চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ চালু করা খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে নিজ বাসায় একুশে পদকজয়ী এ শিল্পীর জীবনাবসান হয়।

শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের সাবেক পরিচালক মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার বিকাল ৩টায় সৈয়দ জাহাঙ্গীরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে চারুশিল্পী-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে সাতক্ষীরায় গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।

১৯৩৫ সালে সাতক্ষীরা জেলায় সৈয়দ জাহাঙ্গীরের জন্মগ্রহণ করেন। চারুকলা থেকে পাস করে দীর্ঘদিন তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন একজন ‘ফুলটাইম’ চিত্রকর হিসেবে।

১৯৫৮ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্টেট ঘুরে ঘুরে আমেরিকান শিল্পধারার সঙ্গে সৈয়দ জাহাঙ্গীরের পরিচয় হয়।পাকিস্তান আমলে টেলিভিশনে খবর পড়তেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর। বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল, তিনি আটকা পড়েন পাকিস্তানে। তাকে টেলিভিশন থেকে বাদ দেয়া হয়। ১৯৭৩ সালে দালালের মাধ্যমে পালিয়ে দেশে ফেরেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর।

১৯৭৭ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে চাকরি নিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ চালু হয়েছিল। তার সময়ে ও তার উদ্যোগেই শিল্পকলা একাডেমির দ্বি-বার্ষিক আন্তর্জাতিক চিত্রকলা প্রদর্শনী শুরু হয়। জনপ্রিয় হয়ে উঠে জেলা উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজনও।

১৯৮৫ সালে একুশে পদক ও ১৯৯২ সালে চারুশিল্পী সংসদের বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন তিনি। এছাড়াও সম্মাননাস্বরূপ মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার, শশীভূষণ সম্মাননা, বার্জার পেইন্টস, হামিদুর রহমান পুরস্কারে ভূষিত হন গুণী এই শিল্পী।