দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম নিয়েছিলেন বলেই বাঙালি জাতি হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা, প্রতিষ্ঠা পায় লাল সবুজ পতাকার স্বপ্নের দেশ- স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। একইভাবে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের মহান স্থপতির রক্তে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতো না। বিশ্ব উন্নয়নের রোল হিসেবে পরিচিতি পেত না। সেই গণমানুষের নেত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার, গণতন্ত্রের নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭২তম শুভ জন্মদিন আজ।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ তনয় শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দি‌নে টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে আবির্ভূত করেছেন তিনি। তিনি আজ বিশ্বনেত্রী। বঙ্গবন্ধুর মতো তার চরিত্রে মানুষের প্রতি বিশ্বাস-ভালোবাসা, সততা, দক্ষতা, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতার বিশেষ গুণ বিদ্যমান। বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে ব্যক্তিজীবনে প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাদের দুই সন্তান- তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আন্তর্জাতিক অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

সরল সহজ সাদামাটা জীবনের অধিকারী শেখ হাসিনার গোটা জীবন নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিক্রম হচ্ছে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই বাঙালির অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে অগ্রণী সৈনিক। দূরদর্শিতার চিহ্ন যিনি ইতিমধ্যে রেখে চলেছেন সারা বিশ্বে। তিনি আজ বিশ্বনেত্রী। বঙ্গবন্ধুর মতো তার চরিত্রে মানুষের প্রতি বিশ্বাস-ভালোবাসা, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতার বিশেষ গুণ বিদ্যমান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ সবাই ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। এ হত্যাকাণ্ডের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে অবস্থার পরিবর্তন হয় ১৯৮১ সালের ১৭ মে। সেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন সর্বস্বহারা শেখ হাসিনা। কাণ্ডারিবিহীন, দিগভ্রান্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে আসেন তিনি। সে সময়ে দেশের বাইরে ছিলেন বলেই ঘাতকের বুলেট তাকে তখন স্পর্শ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ দেশের সব মানুষেরই ভরসা ছিল এই যে, একদিন ফিরবেন তিনি। পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে এগিয়ে নেবেন দলকে, সর্বোপরি দেশকে। বাংলা মায়ের সন্তান তিনি। ফিরে এলেন আবার সেই মায়েরই কোলে। তারপর থেকে বন্ধুর পথ চলা। পিছপা হননি কোনদিন।

শেখ হাসিনা যেন অদম্য, কেউ তাকে নিরস্ত করতে পারেনি অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম থেকে। দলকে শক্তিশালী করেন। মানুষের আস্থা অর্জন করেন। তারপর ষড়যন্ত্র, প্রতিহিংসা, ইতিহাস বিকৃতি হত্যার রাজনীতি অতিক্রম করে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে জনগণের রায়ে সরকারে আনেন। আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ- এ যেন অন্য বাংলাদেশ, এগিয়ে যেতে থাকে উন্নয়নের পথে, মানুষ আবার বাঁচতে শেখে, স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হারানো হলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর জোট সরকারের অত্যাচার নিযার্তন শুরু হয়, ২০০৪ সালের গ্রেনেড মেরে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সে হামলায় দলের নেতাকর্মীদের মানববর্ম শেখ হাসিনাকে প্রাণে বাঁচালেও আওয়ামী লীগ মহিলা সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। দমে যাননি। বরাবরের মতোই শোককে শক্তিতে পরিণত করে জনগণের কল্যাণে নিজেকে রেখেছেন অটল ও দৃঢ়। নিজ মুখেই তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। বাবার মতো দেশের কল্যাণে আমিও রক্ত দিতে প্রস্তুত।’

মানুষের পাশে থেকে, অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল থেকে শেখ হাসিনা গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন, শত বাধা আসলেও অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথ ও সংগ্রামের পথ ছাড়েননি। কিন্তু তাকে রাজনীতি থেকে সরাতে এমনকি প্রাণ সংহার করতে চলেছে ষড়যন্ত্র। ১৯ বার তাকে হত্যার চেষ্ঠা করা হয়, বাংলার মানুষের ভালোবাসায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

২০০৭ এ নির্বাচন বন্ধ করে আসে সেনা-সর্মথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিনা কারণে সুধা সদন থেকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। সাব জেলে ১১ মাস আটকে রেখে ১১ জুন ২০০৮ সালে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিপুল বিজয় নিয়ে আবারও সরকারে আসে আওয়ামী লীগ। দেশ সামনের দিকে এগুতে থাকে, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করা হয়, য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার শুরু হয়, বিচারের রায়ও কার্যকর করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নস্যাৎ করতে চলছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। বিএনপি জামাত সরাসরি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন বন্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র তো রয়েছেই পাশাপাশি হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। এমনকি আর্ন্তজাতিক মহল থেকে চাপ দেয়া হয় যাতে রায় কার্যকর না করা হয়- এ সবই তিনি সততার শক্তিতে সামাল দিয়েছেন। শেখ হাসিনাই পেরেছেন কঠিন চাপ উপেক্ষা করে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শুরু হয় হত্যা সহিংসতার নতুন খেলা- নির্বাচন বানচালের নামে শুরু হয় নিরীহ মানুষ হত্যা, পেট্রোল বোমার সন্ত্রাস। বিএনপি ও জামাত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচনে না এসে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে, বাসে ট্রাকে রেলে আগুন দেয়, ঘুমন্ত শিশুকেও পুড়িয়ে মারে। অবরোধের নামে শুরু করেছিল রক্তের হোলি খেলা। বিএনপি জামাত জোট ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে প্রতিহত করতে ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালায় কিন্তু গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ ভোট দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পক্ষে রায় দেয়ায় ব্যর্থ হয় বিএনপি জামাতের সহিংসতা তাণ্ডব। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত আগামীর পথে হাঁটতে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। উন্নয়নের আলোকরশ্মি ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিস্তৃত অঞ্চলে, মানুষের ঘরে ঘরে।

পিতার মতো হিমালয়সম আত্মবিশ্বাস তাকে শত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করতে শিখিয়েছে। যারা দেশে রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ কায়েম করতে চায় কিন্তু তিনি শক্তহাতে এদের দমনে সক্ষম হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতাই তার শক্তি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার শেখ হাসিনা। তিনি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসে বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে সবদেশকে আহ্বানও জানিয়েছেন।

গণমানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন শেখ হাসিনা-সেজন্যই তিনি জনগণের মনজয়ী নেত্রী, আমাদের আস্থার ঠিকানা, উন্নয়নের বাতিঘর। মানুষ বিশ্বাস করে তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। আমি বিশ্বাস করি শেখ হাসিনাই পারবেন জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। তারই দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়ে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশায় সমগ্র জাতি। তিনি নতুন আগামীর পথ রচনা করেছেন, দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে যাচ্ছেন দুর্বার গতিতে, শুধু মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াই নয় আমাদের সুদূর আগামীর ভিত্তি রচনা করেছেন, তাই ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক বাংলাদেশের ছবি এঁকে দিয়েছেন জাতির হৃদয়ে।

ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর আমিনুল, সদস্য, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ