Home জেলার খবর ‘পাগল বানাতে’ বোনকে শিকলবন্দী করে ইনজেকশন পুশ

‘পাগল বানাতে’ বোনকে শিকলবন্দী করে ইনজেকশন পুশ

- Advertisement -

প্রায় এক মাস ধরে বোনকে পাগল বানাতে অন্ধকার ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি ওই নারীর শরীরে জোর করে বিভিন্ন রকম ইনজেকশন পুশ ও ওষুধ খাওয়াতেন। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার চামড়াব গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে। পরে গতকাল শনিবার (৮ জুন) সকালে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা ঘরের তালা ভেঙে শিকল বাঁধা অবস্থায় স্মৃতি পাল (১৮) নামের ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এদিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্মৃতির ভাই রনি পাল (২৫) পালিয়ে যান। এ সময় স্মৃতির চাচা রিপন পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। স্মৃতি পৌর এলাকার চামড়ার গ্রামের মৃত দেবেশ চন্দ্র পালের মেয়ে।

- Advertisement -

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘোড়াশাল পৌর এলাকার চামড়ার গ্রামের মৃত দেবেশ চন্দ্র পাল প্রায় আট বছর আগে ও তার স্ত্রী বিনা রানী পাল প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। তাদের রেখে যাওয়া প্রায় ১২০ শতাংশ জমি ছেলে রনি পাল ও মেয়ে স্মৃতি পাল ভোগ করে আসছিলেন। স্মৃতি ২০১৮ সালে স্থানীয় রাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে এলাকায় বিনা বেতনে ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতেন।

নির্যাতিত স্মৃতি জানান, রনি পাল বাবার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি একা ভোগ করার জন্য তাকে কোনো কলেজে ভর্তি না করিয়ে পাগল বানানোর চেষ্টা চালান। এ উদ্দেশ্যে গত এক মাস ধরে তাকে একটি কক্ষে খাটের সঙ্গে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরের দরজা-জানালা, ফ্যান ও বাতি বন্ধ করে অন্ধকারে ফেলে রাখেন রনি। মাঝে-মধ্যে তিনি স্মৃতিকে মানসিক নির্যাতন চালাতে ইনজেকশন এবং বিভিন্ন ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন। নির্যাতনের এই এক মাসে তাকে তিন বেলা ঠিকমতো খাবার ও দেওয়া হয়নি।

এ সুযোগে রনি পাল তার চাচা রিপন পালের শ্যালক পৌর এলাকার ভাগদী গ্রামের বাসিন্দা অপু পালের কাছে তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রির জন্য ৪০ লাখ টাকা বায়না করেন। বাকি টাকা নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়িসহ জমি রেজিস্ট্রিও করে দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান তার চাচা রিপন পাল।

এ বিষয়ে পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা বলেন, স্মৃতি রানী পালকে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। স্মৃতি পুরোপুরি সুস্থ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।

এদিকে স্মৃতিকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহেদ আহম্মেদ, পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন ও পৌর মেয়র শরিফুল হক।

লেটেস্টবিডিনিউজ/কেএস

- Advertisement -