বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ ড. কামাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের বৃহৎ দল বিএনপির কাছে ২০টি আসনে গণফোরামের প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন দলটির সভাপতি ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন। কিন্তু ভোটের হিসাব নিকাশে শেষ অবধি ৫টি আসন পেয়েছে তার দল। বিএনপির কাছ থেকে কাঙিক্ষত আসনগুলো না পাওয়ায় বিএনপির ওপর ড. কামাল হোসেন ক্ষুব্ধ রয়েছেন বলে গণফোরাম সূত্রে জানা গেছে।

এর ফলে বিএনপির সঙ্গে কিছুটা দূরত্বও তৈরি হয়েছে ড. কামালের। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মনোমালিন্য থাকলেও এই মুহূর্তে ঐক্যফ্রন্টে থাকছেন ড. কামাল ও তার দল গণফোরাম।

গণফোরামের ভাষ্য বাকি ১৫টি আসনে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। ওই ১৫টি আসনের প্রার্থীরা গণফোরামের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন। এতে আপত্তি জানাবেন না ড. কামাল হোসেন।

গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জগলুল আফ্রিদ বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে গর্ত থেকে তুলে এনেছেন। কিন্তু আসন ভাগাভাগির বিষয়ে অবমূল্যায়ণ করা হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের নেতাদের মনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিএনপির কাছ থেকে পাওয়া ৫টি আসন বাদে অন্য আসনে প্রার্থীরা যদি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় তাহলে কোনো আপত্তি আসবে না বলে মনে করি।’

এ অবস্থায় গণফোরাম ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপির কাছ থেকে সরে যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির অপর যুগ্ম সাধারণ শফিউল্লাহ বলেন, ‘আগামী ১৭ ডিসেম্বর ইশতেহার দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই মুহূর্তে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপি ছেড়ে গেলে মানুষ ভাববে আমরা লোভী। আসন না পেয়ে ছেড়ে যাচ্ছি। মূলত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা জোটবদ্ধ হয়েছি। এই জোট থাকবে। ভবিষ্যতের টা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘কিছুটা ক্ষোভ তো থাকবেই। এটাই স্বাভাবিক। তবে আসন বাড়ানোর জন্য আমরা বিএনপিকে চাপ দিয়েছি। কিন্তু বিএনপির যুক্তির কাছে আমরা পারিনি।’

‘বিএনপি বলেছে গণফোরামের প্রার্থীদের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোয় বিএনপির অনেক যোগ্য প্রার্থী আছে। ওই সময় আমি বলেছিলাম আমি তাহলে নির্বাচন করব না, আমার অন্য প্রার্থীদের যেন আসন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। জবাবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আপনি নির্বাচন করবেন না, আপনার সভাপতিও নির্বাচন করছেন না। এটা তো হতে পারে না। আমি চেয়েছিলাম আমার পরিবর্তে তৃণমূলের অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়ন পাক। তারপরও নির্বাচনে আছি।’

‘আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এই মুহূর্তে কোনো মতভেদ চাই না। যার যার মতো সবাইকে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ঐক্যফ্রন্টেই আছি। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই’ বলেন মোস্তফা মহসীন মন্টু।