সরকারি স্কুল: ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা

gov school

চট্টগ্রাম নগরের এজি চার্জ স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদ আহনাফ। তার বাবা আব্দুল করিমের ইচ্ছে সরকারি স্কুলে পড়াবেন ছেলেকে। তাই ভর্তিযুদ্ধের জন্য আহনাফকে প্রস্তুত করতে বছরের শুরু থেকেই গৃহশিক্ষক রেখে পড়ানোর পাশাপাশি ছেলেকে কোচিংয়েও ভর্তি করান তিনি।

তবে করোনার কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছেলের সরকারি স্কুলে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পেশায় আইনজীবী আব্দুল করিম। এর কারণ- মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এইবার নগরের সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা কখন হবে, কীভাবে হবে, আদৌ হবে কী না- এইসব প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে শুধু আব্দুল করিম নন, ছেলে-মেয়েকে নগরের সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে ইচ্ছুক সব অভিভাবকের মধ্যেই এখন বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে নগরের ৯টি সরকারি স্কুল- কলেজিয়েট স্কুল, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী মুহাম্মদ মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মুসলিম হাইস্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় এসব সরকারি স্কুলে বিভিন্ন শ্রেণির ৪ হাজার ২৪০টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করে। ক, খ এবং গ- তিনটি ক্লাস্টারে এসব স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ কিংবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার নির্দেশিকা অনুমোদন করা হয়। এরপর জেলা কমিটি এসব নির্দেশিকা ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে।

তবে এবছর দেশে করোনার কারণে সরকারি স্কুলের ভর্তি নিয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। কবে এই বৈঠক হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি। ফলে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ‘অন্ধকারে’ রয়েছেন নগরের ৯ সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরাও।

জানতে চাইলে নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম হোসাইনি জানান, নিয়ম হচ্ছে- প্রথমে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়। এরপর জেলা কমিটি সেই নির্দেশনা অনুসারে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নির্ধারিত তারিখে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, এইবার করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই কারণে মন্ত্রণালয় বা জেলা কমিটি থেকে ভর্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকার ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবে নির্দেশনা পালন করা হবে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, করোনার কারণে এবার ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হচ্ছে। আজকেও (১০ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ে খবর নিয়েছি- তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিলেই আমরা ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করবো।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। আমরা নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলে দ্রুত ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।