ঢাকা থেকে নিখোঁজ এনজিও কর্মীর লাশ উদ্ধার ফটিকছড়িতে :যা করে দেখালো পিবিআই !

Chattogram

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কোটি টাকার তক্ষক বিক্রির লোভ দেখিয়ে চাঁদপুর মতলব থানা এলাকার এনজিও কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে ভূজপুর থানার বাগানবাজারে এনে অপহরণের এক বছর পর তার কঙ্কালের সন্ধান মিলেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী বাগানবাজার ইউপির নুরপুরের গহীন জঙ্গল থেকে ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ১৭ ঘন্টা অভিযানের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একটি টিম হেলাল উদ্দিনের কঙ্কালটি উদ্ধার করে।

এর আগে গতকাল বিকেলে অপহরণের সাথে জড়িত বিল্লাল নামে একজনকে রামগড় থেকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তিতে তাকে নিয়ে গতকাল রাতে বাগানবাজার ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের নুরপুর গহীণ জঙ্গলে মাইলের পর মাইল হেঁটে পিবিআই টিম ঘটনাস্থলে পৌছে হেলাল উদ্দিনকে মেরে লাশ পুঁতে ফেলার এই স্থানটি সনাক্ত করে পিবিআই।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, কথিত কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক কমমূল্যের নাম করে গত বছরের ২২ নভেম্বর বাবুল সিকদার (৪২) নামে এক ঠিকাদার ও এনজিও সংস্থা সেতু বন্ধনের ঢাকা মুগদাপাড়া শাখার ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন (৪৩)কে কৌশলে বাগানবাজারে এনে অপহরণ করে।

পরে অপহরণকারীরা তাদের পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। কয়েকদিনের মাথায় অপহরণকারীরা বাবুলকে মুক্তি দিলেও অপর এনজিও কর্মকর্তা হেলালকে অপহরণের পর হত্যা করে সংঘবদ্ধ চক্রটি । এমনকি হত্যার পর লাশ ফেলা দেয়া হয়েছিলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চলটির ৫০ ফুট গভীর গর্তে। লাশ ফেলে দেয়ার পর প্রায় ৫ ফুটের মত মাটি দিয়ে চাপা দেয়া হয়। গত বছর ৬ ডিসেম্বর নিহত এনজিও কর্মকর্তা হেলালের ২য় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা পিংকি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে ভূজপুর থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করে।

পরে ভূজপুর থানায় মামলাটি তদন্তে অগ্রগতি না মেলায়,আদালত এ বছর মার্চে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তরের পর অধিকতর তদন্তে নামে তারা।হত্যাকাণ্ডের পর এক বছরের মাথায় জড়িত একজনকে পিবিআই আটকের পর বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছদ্ম বেশ ধারন করে লালমাই এলাকার বিল্লাল নামের একজনকে আটক করে পিবিআই।তাদের সহযোগীতা করে দাতঁমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এস্কেভেটরের সাহায্যে ৬ ঘন্টা কাটা হয় মাটি। এরপর লাশের সন্ধানে পরিত্যক্ত কুঁপটিতে নামানো হয় স্হানীয় শ্রমিকদের।পর পর তিনটি বিষধর সাপ গর্তটিতে পায় তারা। দীর্ঘক্ষন মাটি খুঁড়ার পর হেলালের হাড়গোড়সহ জামা কাপড় পরিহিত লাশের সন্ধান পায় তদন্ত দল পিবিআই সদস্যরা। এ সময় হেলাল উদ্দিনের ২ স্ত্রী,১ ছেলেসহ অন্যান্য আত্নীয় স্বজনরা উপস্হিত থেকে লাশ সনাক্ত করেন।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগেরও মিলল সত্যতা।বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী রামগড়-বাগানবাজার এবং হেঁয়াকোর গহীন জঙ্গলে বিপুল পরিমাণ তক্ষকের বাস রয়েছে বলে একটি গ্রুপ প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এর কোনো আর্থিক মূল্য না থাকলেও বিভিন্ন গুজব রটিয়ে একটি চক্র দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ফটিকছড়ি,রামগড় এলাকায় সাধারণ মানুষকে এখানে এনে জিম্মি করে রাখতো। যাদের কাছ থেকে দাবীকৃত মুক্তিপণ পাওয়া যেত না তাদের হত্যা করে জঙ্গলে লাশ গুম করা হতো।