পাহাড়-কাটা, টার্মিনালের অভাবসহ প্রশাসক ‘সুজন’ এর উপস্থিতিতে ৯ টি সমস্যা চিহ্নিত

Chittagong
সকল সেবা সংস্থার সাথে চসিকের সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখছেন সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক-খুরশেদ আলম সুজন।

মোঃ ইফতেখার, (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি): চট্টগ্রাম এখন ধুলোর নগরী। ওয়াসা ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের জন্য সড়ক কাটায় ধুলা যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। নগরে যানবাহন থামার নির্দিষ্ট কোন স্টপেজ নাই, প্রভাব খাটিয়ে ফুটপাত দখল। অথচ নগরে ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। যে কারণে গুরুত্ব বাড়ছে নগরের, কিন্তু সে অনুযায়ী সমস্যাও অনেক। বুধবার ২৫ নভেম্বর টাইগারপাস বাটালী হীলের অস্থায়ী অফিসের কনফারেন্স রুমে নগরীর সকল সেবাসংস্থার সাথে চসিকের সমন্বয় সভায় বিষয়গুলো উঠে আসে।

চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিমান বন্দর সড়কে বন্দরের ট্রেলারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক খুরশেদ আলম সুজন। ভারি যানবাহনের কারণে এই এলাকায় শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের প্রতিদিন কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে জানিয়ে এব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা কামনা করেন তিনি ।বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন কন্টেইনার ইয়ার্ড করবেনা বলে, কেন করছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও প্রশাসক বায়েজিদ এলাকায় পাহাড় কাটা বন্ধ ও পরিবেশ দূষণ রোধে স্টিল রি-রোলিং মিল গুলোর চিমনির কালো ধোয়া বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। তিনি কর্পোরেশনের সাথে কোন সেবা সংস্থার দূরত্ব থাকুক তা চান না উল্লেখ করে নগরীর উন্নয়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান বলে জানান।

এদিকে তিনি চট্টগ্রাম নগরীকে নান্দনিক ও পরিবেশ বান্ধব করে গড়ে তুলতে সকল সেবাসংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগে উন্নয়ন কাজ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। দখল, দূষণ,জলাবদ্ধতা, যানজট, অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে চট্টগ্রাম নগরী এখন শ্রীহীন নগরে পরিণত হয়েছে বলেও আখ্যায়িত করেন।অথচ চট্টগ্রাম থেকে ঘুনধুম হয়ে মিয়ানমার দিয়ে চিনের কুমমিং পর্যন্ত রেল লাইনের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হলে ও ভারতের সেভেন সিস্টার, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও আরো কিছু দেশ সংযুক্ত হয়ে মহেশ খালীর মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপিত ও বে-টার্মিনালের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম শহর রিজিওন্যাল কানেকটিভিটির কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সভায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফলুল্লাহ, স্থানীয় সরকার কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পো. সচিব মুহাম্মদ আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, কেজিডিসিএল এর মহা ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সরওয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পো. প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আকতার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রো পুলিশ (ট্রাফিক) এর উপপরিচালক জয়নুল আবেদীন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধি. উপ-পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান, পরিবেশ অধি. পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী, প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর, গণপূর্তের অতি. প্রধান প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী, বিআরটি এর চট্টগ্রাম ডিভিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাংবাদিক মোঃ ইফতেখার, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, শুস্ক মৌসুমে অগ্নি নির্বাপন রোধে ওয়াসার স্থাপিত ২৪৫টি ফায়ার ফাইটারগুলো সক্রিয় করার পাশাপাশি পানির অপচয় রোধে লক সিস্টেম চালু করা হবে বলে জানান।নগর বাসীকে নিজ বাসগৃহের ভুগর্ভস্থ পানির ট্যাকংগুলোকে বড় রাখতে নকশা প্রনয়ণে চউককে তা তদারকি করতে বলেন।এবং নগরীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন ও ইপিজেড স্থাপনের পূর্বে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা বিবেচনায় রাখতে বলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নুরুল্লাহ নুরী বলেন, যে কোন উন্নয়ণ কাজ করতে পরিবেশের যাতে ক্ষতি না হয় তা বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান কাজের প্রকল্প এলাকায় ধুলাবালি রোধ ও জননিরাপত্তার জন্য ঘেরা দেয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন ও ১ ঘন্টা অন্তর পানি ছিটাতে বলেন।এছাড়া তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে ইটিপি স্থাপন ও কমপ্লায়েন্ট নিশ্চিত করতে বলেন।

এছাড়াও অনেক সেবা সংস্থার উন্নয়ন কাজ সাব কন্ট্রাকে হওয়ার কারণে গুণগতমান ঠিক রাখা যাচ্ছে না বলেও আলোচনায় উঠে আসে। সর্বশেষ উপস্থিত আলোচকদের আলোচনায় ধুলোর নগরীতে পরিণত যানজট, বিদ্যুৎ, পানি, জলাবদ্ধতা, স্যুয়ারেজ, বায়েজিদে অবৈধ পাহাড় কাটা, কর্ণফুলীর দুষণ, বিমান বন্দর সড়কে যত্রতত্র কন্টেইনার ইয়ার্ড গড়ে উঠা, নগরে বাস-ট্রাক টার্মিনাল এর অভাব সহ নগরীকে নতুন সাজে গড়ে তুলতে, ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের অভাব এর বিষয় উঠে আসে।