মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

ছবিঃ সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের বরাইলবাড়ী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও পেয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খানের সাথে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক লাভলু তালুকদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন। আজ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়, আহত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপত্য নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের স -সভাপতি ও পেয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খানের সাথে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক লাভলু তালুকদারের বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে আজ সোমবার সকালে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যসহ দুই গ্রুপের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। সংঘর্ষে আহতরা মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতরা ভর্তি আছেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক লাভলু তালুকদার বলেন, মজিবর খান ও তার ভাইরা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। সামান্য বিষয় নিয়ে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আমার প্রায় ১০ জন লোক আহত হয়েছেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও পেয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে পেয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা লাভলু তালুকদারের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।