রাজধানীর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু, দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার পালটাপালটি অভিযোগ

রাজধানীর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু, দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার পালটাপালটি অভিযোগ

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমজমাট হয়ে উঠছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। আজ সোমবার (১৯ জুলাই) বেচা-কেনা শুরুর তৃতীয় দিনে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায়ও মুখরিত হাটগুলো। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা ছিলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই।

হাটে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ৪৬টি শর্তের অধিকাংশই মানা হচ্ছে না। কোথাও কোথাও কিছুটা তদারকি দেখা গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ অবস্থায় সচেতন ব্যক্তিরা হাটে পশু কিনতে গিয়েও স্বাস্থ্যবিধি না থাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। হাট ঘুরে দেখা যায়, পশুর দরদাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ ক্রেতাই নির্দিষ্ট দামের চেয়ে অনেক কম দাম বলছেন। আর ক্রেতারা বলছেন, হাটের শুরু থেকেই বেশি দাম হাঁকছেন বিক্রেতা। দাম বেশি হওয়ায় ছোট ও মাঝারি গরু কিনতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহের হরিণাকণ্ডু থেকে আসা ব্যাপারী বিপ্লব জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা গরুর দাম কম বলছেন। এখন পর্যন্ত বড় গরুর ক্রেতাই আসেনি। তবে ছোট ও মাঝারি গরু বিক্রি হলেও সেগুলোও আশানুরূপ দাম পাওয়া যাচ্ছে না।’ একই কথা জানান চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা আব্দুল লতিফ। তিনি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা মূল্যের চারটি গরু এনেছেন এই হাটে। এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘বড় গরু সব সময় শেষের দিকে বিক্রি হয়। এখন ক্রেতারা বাজার যাচাইয়ে আসছেন, পরে কিনবেন।’ কুষ্টিয়ার আকমল ব্যাপারী জানান, সব ধরনের গরু যেমন বাজারে এসেছে, তেমনই ক্রেতার আগমনও ভালো। তবে ক্রেতারা এখন দাম কম বলছেন, যা আশা ছিল তেমন পাচ্ছি না। তবে গরু বেশি হওয়ায় লাভ কম রেখেই ছেড়ে দিচ্ছি।’ উত্তর শাজাহানপুর থেকে আসা হাজী আব্দুস সবুর বলেন, ‘ব্যাপারীরা এবার অনেক দাম চাইছেন। এ কারণে এখনো কেনা হয়নি, তবে আরো কয়েকটি হাট দেখেই বড় গরু কিনবো।’ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন চামেলীবাগের ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিক্রেতারা দাম বেশি বলছেন। তবুও কিনতে হবে, তাই আগে-ভাগেই গরু কিনেছি। আবহাওয়া কখনো ভালো, আবার কখনো খারাপ হচ্ছে কয়েক দিন ধরে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে আগেই কিনেছি। তবে অন্যবারের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি।’ অন্যদিকে এই হাটের একপাশে উঠেছে ছাগল। তবে এখনো ছাগল বিক্রি জমে ওঠেনি। বিক্রেতারা বলছেন, হাটে ছাগল আনা শুরু হয়েছে। আগামীকালের মধ্যেই বিক্রি জমে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।

এদিকে শর্ত অনুযায়ী এবার হাটগুলোর জন্য সিটি করপোরেশনের হাটে ইজারাদার মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করবেন। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হাঁচিকাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার কথা সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে। হাটে প্রবেশের সময় গ্রাহক চাইলে তাকে বিনামূল্যে মাস্ক দিতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। একটি পশু থেকে আরেকটি পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতাদের মধ্যে তিন ফুট দূরত্ব থাকে। ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিয়ে দিতে হবে। হাটের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পশু ঢোকাতে হবে। কিন্তু বেশির ভাগ হাটেই ভঙ্গ হচ্ছে এসব শর্ত। ইজারাদাররা হাসিল আদায় ছাড়া অন্য কিছুতে তেমন গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ডিএনসিসি এলাকায় স্থাপিত পশুর হাট সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে। এই কমিটিতে ১৩ জন কাউন্সিলর এবং দুই জন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত প্রত্যেকটি পশুর হাটেই সরকারি নির্দেশনাসহ স্বাস্থ্যবিধিসমূহ প্রতিপালনে ডিএনসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।