বেরোবি’তে পতাকা বিকৃতির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

Begum Rokeya University

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা জাতীয় পতাকা বিকৃতি ও অবমাননার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে রংপুর জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি।

পরে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর কাছে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় পতাকা বিকৃতির ঘটনায় রংপুর জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে জাতীয় পতাকা বিকৃতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সে কারণে আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার তথ্যসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত কমিটির এক সদস্য। তবে তিনি নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বিজয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক একটি বিকৃত জাতীয় পতাকা নিয়ে ফটোশেসন করেন এবং সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। তদন্তে এর প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

জেলা প্রশাসনের গড়া তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে জমা দিয়েছি। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে তা পাঠানো হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম দুলু এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার জিন্নাহ আল মামুন।

এদিকে, পতাকা বিকৃতির ঘটনার এক সপ্তাহ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাস্থ লিঁয়াজু অফিসে সিন্ডিকেটের ৭৩তম বিশেষ সভায় তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। এতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল ইসলামকে আহ্বায়ক প্রক্টর আতিউর রহমানকে সদস্য সচিব এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য সুচিতা সুচিত্রা শারমিনকে সদস্য করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময় বেধে দেয়নি প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, পতাকা অবমাননার ঘটনায় অভিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং আরেক অভিযুক্ত শিক্ষক আর এম হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে সুপারিশে সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মতামতের ভিত্তিতে গঠিত এ তদন্ত কমিটি মূলত তাদের দায়মুক্তি দিতে পারে।

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসে সবুজের মধ্যে লাল বৃত্তের পরিবর্তে চারকোণা লাল আকৃতির ‘পতাকা’ হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কয়েকটি ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছবিতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকার নকশা পরিবর্তন করে সবুজের ভেতর লাল বৃত্তের পরিবর্তে চারকোণা আকৃতির লাল ‘পতাকা’ হাতে নিয়ে স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে পোজ দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়া হলে তা ভাইরাল হয়।

ছবিতে দেখা যায়- বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন, অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামীম হোসাইন, ইতিহাসের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, মার্কেটিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাসুদুল হাসান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রাম প্রসাদ, সহকারী অধ্যাপক কাইয়ুম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রহমতউল্লাহ একটি বিকৃত পতাকা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।