জাতিসত্তার স্মারক একুশে ফেব্রুয়ারি

শেখর দত্ত

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে অবিস্মরণীয় একটি দিন। রক্তে ভেজা, কান্নায় সিক্ত। গৌরবে স্পর্ধিত, চির উন্নত। জাতির উদ্ভব ও জন্ম পরিচয়ের স্মারক। এই দিনটি মানেই হচ্ছে একটি চেতনা। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, মানুষের প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত। এই চেতনা জাতির আত্মপরিচয়কে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়, জাতিসত্তাকে সুরক্ষা দেয়, জাতিকে পথ দেখায় এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।

একুশই আমাদের প্রথম শিখিয়েছিল, পূর্ব বাংলার নদীবিধৌত শ্যামল মানচিত্রের সব মানুষের মা হচ্ছে এক ও অভিন্ন। দেশমাতা হচ্ছে আমাদের বাংলা মা। একই আকাশের নিচে বসবাস করি আমরা। একই বাতাস থেকে নেই নিঃশ্বাস । একই অন্ন ফলতণ্ডুলে বেড়ে উঠি। সর্বোপরি মায়ের ভাষা আমাদের এক, একই ভাষায় আমরা কথা বলি। আর এই ভাষাকে রক্ষা করা মানে হচ্ছে বাংলা মাকে রক্ষা করা, বাংলা মায়ের মর্যাদাকে সমুন্নত করা, বিশ্বের বুকে বাংলা মাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।

প্রকৃত অর্থে ওই দিনই বাংলা মায়ের গর্ভে বাঙালির জাতিসত্তার ভ্রণ সৃষ্টি হয়ে আপনাতে আপনি বিকশিত হয়ে উঠেছিল। আর সন্তানদের জানান দিচ্ছিল আমাকে মাতৃজঠরের বাইরে এসে দাঁড়াতে হবে। নিজের জায়গা নিজেকেই করতে হবে। শক্ত মাটির ওপর দাঁড়িয়ে মেরুদণ্ড সোজা ও মাথা উঁচু করে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা নিতে হবে। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১। একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ছাব্বিশে মার্চ। এতটা সময় পর বাংলা মা লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। বাংলা মায়ের সন্তানেরা গাইল, ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি/তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী।’ আপন হতে বের হয়ে যদি কেউ বাইরে দাঁড়ায়, তবে বিশ^লোকের সাড়া তো সে পাবেই। বীর প্রসবিনী বাংলা মাও পেয়েছে বিশ্ব লোকের সাড়া। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

বাঙালি জাতির একান্ত নিজস্ব ও আপন তারিখটি আজ বিশে^র দেশে দেশে সর্বমানবের মায়ের ভাষার সম্মান ও মর্যাদার সমার্থক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগে, এই তারিখটিকেই এক সময় সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে চেয়েছিল দেশীয় দালালদের সঙ্গে নিয়ে বিদেশি শাসক শোষক পাকিস্তানিরা। মাতৃজঠরে জাতিসত্তার ভ্রণকে ধ্বংস করার জন্য শুরুতেই ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিচিহ্ন শহীদ মিনারকে বার বার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। তাতে বাঙালি জাতি দমে যায়নি। কবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছে, ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি!’ কিংবা ‘স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো/চার কোটি পরিবার/খাড়া রয়েছি তো!’

ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় আজ আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিক। একুশ তথা পঞ্চাশের দশক এবং ষাটের দশকের প্রজন্ম এখন ক্রমেই আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। স্বাধীন দেশে জন্ম নেয়া প্রথম প্রজন্ম এখন সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং দ্বিতীয় প্রজন্ম ক্রমেই প্রতিষ্ঠা নিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, আমরা কি একুশের চেতনা জাতিসত্তা সুরক্ষায় এক পরিবার হয়ে দাঁড়াতে পারছি? আমরা কি বুঝতে পারছি জাতিসত্তা সুরক্ষা আর রাজনৈতিক মত-পথের পার্থক্য এক বিষয় নয়? জাতিসত্তা এক বিষয় আর রাজনৈতিক দল ও দলাদলি অন্য বিষয়। জাতিসত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ও বিতর্ক বাধালে যে কার্যত একুশের রক্তাক্ত ও গৌরবমণ্ডিত সেই চেতনাকেই হত্যা করা হয় এবং জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যের ষোলো আনাই ফাঁকি ও নস্যাৎ হয়ে যায় তা কি বুঝতে পারছি? জাতি যেভাবে রাজনৈতিক দিক থেকে বিভক্ত হয়েছে, তা কি জাতীয় ও মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? কোনো জাতি কি এমনভাবে জাতিসত্তা নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রেখে শান্তিতে থাকতে পারে?

আজকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে অনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যখন জাতীয় গৌরব ও মর্যাদার স্মারক একুশের শহীদ দিবস পালন করা হবে, তখন এই প্রশ্নগুলোকেই জাতি তথা আমাদের স্বাধীনতা-পরবর্তী নতুন প্রজন্মের সামনে রাখতে হবে। এই প্রশ্নগুলো আমাদের জাতির পতন-উত্থানের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। প্রসঙ্গত এই দিবসটির একটি বিশেষত্ব হচ্ছে এই যে, রক্তের অক্ষরে ইতিহাসে লিখিত হওয়ার পর থেকেই দিবসটি আমাদের দেশের গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধিকার ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অনুঘটক ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে চলেছে। একুশ মানেই মাথা নত না করা। অভীষ্ট লক্ষ্যাভিমুখে অগ্রসর হওয়ার মহান ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানো।

প্রকৃত বিচারে একুশের প্রভাব বাঙালি জাতির জীবনে কখনো নিঃশেষ হবে না। চির জাগরূক থাকবে এর প্রভাব। এই দিবসের ভেতর দিয়ে পাকিস্তানের প্রতি পূর্ব বাংলার জনগণের মোহভঙ্গ হওয়া শুরু হয়। দিবসটির ধারাবাহিকতায় মুসলিম লীগের কবর রচিত হয় এবং পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। পাকিস্তান ও আমাদের দেশীয় দালালদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের ফলে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকতে না পারলেও ১৯৫৪ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং ১৯৫৫ সালে বাঙলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা হচ্ছে একুশের তাৎক্ষণিক অর্জন। ওই অর্জন বিনষ্ট হতে বসেছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির ভেতর দিয়ে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির পর পর ওই সেনাশাসক প্রথম দিকে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা হচ্ছে, পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য রোমান হরফ এবং একটি নতুন সাধারণ ভাষা সৃষ্টি করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছিল বিচারপতি শরীফের নেতৃত্বে প্রণীত জাতীয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।

সামরিক শাসনের পর ১৯৫৯ সালে আইয়ুব সরকার মহান একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতে দেয় না। কিন্তু পরবর্তী বছর সামরিক আইন উপেক্ষা করে দিবসটি সীমিতভাবে পালিত হয়। ঔপনিবেশিক সরকার তখন দিবস পালনকারীদের বিরুদ্ধে ‘সামরিক আইন আদেশ লঙ্ঘিত হয়েছে’ বিধায় তা প্রয়োগ করতে চাইলেও জনসমর্থনের কারণে পেরে ওঠেনি। তবে ১৯৬২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের আগেই চলে দমনপীড়ন। কণ্ঠরোধ করা হয় সংবাদপত্রের। তাই দিবসটি তেমনভাবে পালিত হতে পারে না। ১৯৬৪ সালে পালিত হয় নতুনভাবে জাগরণের ভেতর দিয়ে। ১৯৬৫ সালে শহীদ দিবস যাতে ভালোভাবে পালিত হতে না পারে, সে জন্য আগের দিন ডাকসু নির্বাচন দেয়া হয়। তবুও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬-দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপটে দিবসটি ব্যাপকভাবে পালিত হয়। ১৯৬৭ সালে তীব্র দমনপীড়ন, বিভ্রান্তি ও বিভক্তির ভেতর দিয়ে পালিত হয় দিবসটি। পরবর্তী বছর ১৯৬৮ সালে তেমনভাবে দিবসটি পালিত হতে পারে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে ১৯৬৯ সাালের ২০ জানুয়ারি ছিল কারফিউ। কিন্তু ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে মহান দিবসটি পালনের জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় কারফিউয়ের মধ্যে মশাল মিছিল বের করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। তাতে সরকার ঘাবড়ে যায় এবং কারফিউ তুলে নেয়। অভূতপূর্ব ছিল সেই একুশে। ১৯৭০ সালে নির্বাচন সামনে রেখে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পাকিস্তানের নামকরণ ‘বাংলাদেশ’ রাখার ভেতর দিয়ে দিবসটি পালিত হয় বিরাটভাবে।

তারপর মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন স্বদেশে একুশে পালন। ২৫ মার্চ সেই কাল রাতে তো শহীদ মিনার মর্টারের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ক্ষুদ্র এই কলামে সেই ইতিহাস নিয়ে আর আলোচনায় যাওয়া হলো না। তবে পূর্বাপর ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, একুশে পালন বাঙালি জাতির জীবনে কখনো কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। কেননা ওই দিবসটি যে ছিল জাতিবিরোধী শক্তি ও গোষ্ঠীর টার্গেট। আসলে জাতিবিরোধী শক্তি কখনো বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে মেনে নিতে পারেনি। পবিত্র ধর্মকে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিপরীতে স্থাপন করে জাতির মধ্যে জাতিসত্তা প্রশ্নে বিভক্তি সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা নেয়। স্বাধীনতার পর পরাজিত শক্তি কায়েমি স্বার্থ হাসিলের জন্য এই বিভক্তি সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বানাতে চেয়েছে। এ জন্যই পাকিস্তানি আমলের মতো দেশের ওপর চেপে বসেছিল সুদীর্ঘ সময়ের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সামরিক শাসন।

জাতির এক বড় দুর্ভাগ্য এই যে, ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষায় ১৯৯১ সালে তিন জোটের যুগপৎ আন্দোলন যখন বিজয়ী হয়, বিএনপি তখন জামায়াতের প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে বসে ক্ষমতায়। প্রসঙ্গত বলতেই হয়, তিন জোটের আন্দোলনে শামিল হয়ে ক্যান্টনমেন্টে ও ধর্মকে ভিত্তি করে জন্ম নেয়া দলটির রেডিক্যালাইজ গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সেই পথ দলটি গ্রহণ করেনি। এটা ছিল দলটির জন্মের দোষ। ওই নির্বাচনের আগেই বিএনপি আবার পূর্ব রূপে ফিরে যায় এবং আরো দক্ষিণমুখী হয়ে পড়ে। আর ইতিহাসের নানা কারণে বাংলাদেশে দক্ষিণমুখী হওয়া মানেই পাকিস্তানমুখী হওয়া।

ওই দিনগুলোতে নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি যে ইশতেহার জাতির সামনে ঘোষণা করে, তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায় কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। ওই ইশতেহারে খালেদা জিয়া বলেন, জিয়া ক্ষমতায় আসার পর ‘ভিনদেশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক সাহস ও অর্থবহ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আসে এক নতুন জোয়ার।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগেকার আন্দোলনগুলোর মতোই দেশের নির্বাচিত দল হানাদার বাহিনীর কাছে আগেভাগেই আত্মসমর্পণ করিয়া বসেন। … এই কঠিন সময়ে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের দুঃসাহসী এক বীর সন্তান জিয়া চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র হইতে ঘোষণা দেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার।’ ওই দুই উদ্ধৃতি থেকে কেবল তিনটি শব্দ লক্ষ করুন পাঠকরা। যেন ত্রয়োস্পর্শ! ‘বাংলাদেশি ভাষা’, ‘আত্মসমর্পণ’ আর ‘ভিন দেশ’! প্রথম দুটো শব্দ দেখিয়ে দেয়, আমাদের মাতৃভাষার ওপর আঘাত আর আমাদের জাতীয় ইতিহাসের ওপর আঘাত এক ও অভিন্ন রূপে স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপির মাধ্যমে থেকে যায় পাকিস্তান আমলের মতোই। আর সেই সঙ্গে একই জুজু। ধর্ম গেল ধর্ম গেল আর অন্ধ ভারত বিরোধিতা।

প্রকৃত বিচারে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ভাষার ওপর আঘাত, মিথ্যা ইতিহাস ও ইতিহাস বিকৃতি, ধর্ম গেল রব, সাম্প্রদায়িকতা, পাকিস্তান প্রীতি, অন্ধ ভারত বিরোধিতার একত্র মিলন অমর একুশের মর্মবাণীকে তথা আমাদের জাতিসত্তাকে অনবরত আঘাত করে চলেছে। একুশ আমাদের আঘাতের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত করতে শিখিয়েছে। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বাঙালি কবি সুকান্ত বলেছিলেন, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। জানি না, জাতিসত্তায় আঘাতে জর্জরিত বাংলাদেশ এবারে নির্বাচন সামনে রেখে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কতটা পদ্যময় হতে পারবে? জাতি কি পারবে জাতিসত্তার মর্মবাণী জাতীয় চার নীতিকে নিরঙ্কুশভাবে রক্ষা ও অগ্রসর করতে? একুশ কি জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত করে জন্মলগ্নের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হতে পারবে? এসব প্রশ্ন সামনে রেখেই এবারে পালিত হবে মহান একুশে। একুশের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ প্রণতি।

লেখক : রাজনীতিক, কলাম লেখক।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৪ ঘণ্টা, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস