করোনাঃ সাত দিন ধরে বিশ্বে মৃত্যু কমছে

corona

মহামারী করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। প্রতিদিনই সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু বাড়ছে। তবে গত জানুয়ারির পর থেকে চলা এই পরিস্থিতির উন্নতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১২ মে থেকে টানা সাত দিন ধরে বিশ্বে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমছে।

করোনা মহামারির সার্বক্ষণিক তথ্য প্রকাশ করছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস ডট ইনফো। এই ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন সাড়ে ৪৯ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার রোগী।

করোনা মহামারির গত সাত দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১২ মে বিশ্বজুড়ে করোনায় মারা যান ৫ হাজার ৫৬১ জন। এর পরদিন মৃত্যু হয় ৫ হাজার ৩৬৪ জনের। এভাবে কমতে কমতে ১৬ মে এসে মৃত্যু ৫ হাজারের নিচে নামে। তার পরদিন মৃত্যু ৪ হাজারের নিচে নামে। ওই দিন করোনা কেড়ে নিয়েছে ৩ হাজার ৬১৮ জনের প্রাণ। আর গত সোমবার মারা গেছেন ৩ হাজার ৪৪৫ জন। গত ২৯ মার্চের পর এ দিনই সবচেয়ে কমসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। ২৯ মার্চ করোনায় মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৪৩ জন।

করোনায় সবচেয়ে নাকাল যুক্তরাষ্ট্রেও মৃত্যু কমে এসেছে। সিএনএন জানায়, দেশটিতে সোমবার মারা গেছেন ১ হাজার ৩ জন। এর আগের দিন দেশটিতে মারা গেছেন ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল পর্যন্ত মৃত্যু ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে।

রোগীর সংখ্যার দিক থেকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ছুঁই ছুঁই। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গতকাল দেশটিতে ৯ হাজার ২৬৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১১৫ জন। এ নিয়ে রাশিয়ায় মৃত্যু হলো ২ হাজার ৮৩৭ জনের।

এএফপি জানায়, ইউরোপের দেশ ইতালিতে সোমবার করোনায় মারা গেছেন ৯৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু ৩২ হাজার ছাড়াল। দেশটিতে গত ৯ মার্চের পর এই প্রথম করোনায় দৈনিক মৃত্যু ১০০ জনের নিচে নামল। রয়টার্স জানায়, স্পেনে সোমবার মারা গেছেন ৫৯ জন। গত ১৬ মার্চের পর দেশটিতে এ দিনই সবচেয়ে কমসংখ্যক মানুষের প্রাণ গেল করোনায়। সব মিলিয়ে স্পেনে মৃত্যু ২৭ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যে সোমবার করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৬০ জনের। দেশটিতেও প্রায় এক মাসের মধ্যে এ দিন সবচেয়ে কমসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে মারা গেছেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে ভারতেও।