ফেসবুকের প্রবৃদ্ধি কমেছে, বেড়েছে ব্যয়

facebook

ফেসবুকের ব্যবসার পরিচালন খরচ বেড়েছে এবং অব্যাহত রয়েছে প্রবৃদ্ধির ধীর গতি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবসা পরিণত হওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি। গতকাল বুধবার ফেসবুকের প্রান্তিক আয় ঘোষণায় ওয়াল স্ট্রিট হতাশ হয়েছে। ফেসবুকের শেয়ারের দাম ৭ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়।

গতকাল ফেসবুক জানায়, বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের আয়ের প্রবৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ কমেছে। ফেসবুকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভিড ওয়েহনার বলেন, ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকেও তাঁদের প্রবৃদ্ধির হার কম থাকবে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আইনি জটিলতা ও প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়ে ফেসবুকের প্রবৃদ্ধি কমছে।

ওয়েহনার বলেন, ‘আমরা আজ অবধি প্রাইভেসি বা সরকারি উদ্বেগ থেকে পরিমিত প্রভাব পেয়েছি। বেশির ভাগ প্রভাব সামনে দেখা দিতে পারে।’

অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করে থাকে ফেসবুক। গত কয়েক বছর ধরে প্রাইভেসির বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ভুয়া তথ্য ছড়ানো নিয়েও তোপের মুখে রয়েছে ফেসবুক।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কয়েক দফা ডেটা কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। এরপর কনটেন্ট মডারেশন, প্রাইভেসি কর্মকর্তা নিয়োগসহ নানা কাজে খরচ বেড়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটির। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে ফেসবুকের মোট খরচ ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১২ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকেরা খরচের যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তার দ্বিগুণের বেশি খরচ হয়েছে ফেসবুকের। এর বাইরে মামলার সমঝোতা করতেও বেশ কিছু অর্থ খরচ হয়েছে ফেসবুকের।

অবশ্য ফেসবুকের প্রবৃদ্ধির হার কমলেও ব্যবহারকারী বাড়ার হার অব্যাহত রয়েছে। ফেসবুকের মাসিক ব্যবহারকারী ৮ শতাংশ বেড়ে ২৫০ কোটি পার হয়েছে। ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৯০ কোটি মানুষ ফেসবুকের মূল সাইটের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম বা মেসেঞ্জারের মধ্যে কোনো না কোনো সেবা মাসে অন্তত একবার ব্যবহার করেন। এতেই বিজ্ঞাপনদাতাদের ফেসবুক অ্যাপ ও অনলাইন বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। এর বাইরে ই-কমার্স খাতে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে ফেসবুক।