ভোট ডাকাতি ও ভোট কারচুপির ফিল্ড তৈরি হচ্ছে: ইশরাক

israk

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ভোট ডাকাতি ও ভোট কারচুপির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। আজ সোমবার গণসংযোগে নেমে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অভিযোগ করেন।

নির্বাচনী প্রচারের চতুর্থ দিনে আজ ওয়ারী এবং বংশাল এলাকায় গণসংযোগ করছেন ইশরাক হোসেন। বেলা একটার দিকে গোপীবাগের বাসা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। আজ গণসংযোগে তাঁর সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।

ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে এবং বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির সদস্য। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, ‘ফিল্ড একটা তৈরি হয়েছে, সেটা ভোট ডাকাতির, ভোট কারচুপির। প্রতিপক্ষকে দমন করার একটা ফিল্ড তৈরি করা হচ্ছে। এটাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কি না, জানি না।’

প্রচারে নেমে মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন ইশরাক। তিনি বলেন, ‘যে এলাকায় যাচ্ছি, সেই এলাকার বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে দলীয় অবস্থান থেকে সরে আসেননি জানিয়ে ইশরাক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত বলে আসছি, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপির সম্ভাবনা আছে। নিভৃতে ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব।’

গতকাল রোববার নির্বাচনী প্রচারে বাধা পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন ইশরাক। আজ সে রকম কিছু হচ্ছে কি না? প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত বাধার সম্মুখীন হননি। তবে আশঙ্কা করছেন, বাধার সম্মুখীন হবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মানসিক প্রস্তুতি আছে। যত বাধাই আসুক, আমরা বাধা মানব না। দৃঢ়ভাবে আমরা এগিয়ে যাব।’

ভোটারদের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার জাতি। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা মাথা নত করব না। ৩০ শে জানুয়ারি অবশ্যই আপনারা ভোট দিতে যাবেন। সুষ্ঠুভাবে যাতে ভোট দিতে পারেন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব।’

নির্বাচনী প্রচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, ‘প্রচার অর্থবহ হচ্ছে। আমরা অলিগলিতে ঘুরছি। আমার জন্ম ঢাকায়। এই নগরীর প্রতিটি গলি আমার চেনা। যেখানে যাচ্ছি, স্থানীয় লোকজন এসে অংশ নিচ্ছেন, কথা বলছেন, কুশল বিনিময় করছেন।’

মেয়র নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা এবং ঘনত্ব বিবেচনায় গণশৌচাগার নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী বলেন, গণশৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। পর্যাপ্ত গণশৌচাগারের অভাবে নারী এবং প্রতিবন্ধী মানুষেরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন, অস্বস্তিতে পড়েন।