‘সমালোচকদের থামানোর একটাই উপায়, আমাকে রান করতে হবে’

হারিয়ে ফেলা ফর্ম ফিরে পেয়েছেন, কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। ভালো খেলতে খেলতে হঠাৎ উদ্ভট এক শট খেলে আউট হয়ে যান! অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দেখা গেছে সৌম্য সরকারের ব্যাটিংয়ের এই ছবি। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড, ত্রিদেশীয় সিরিজ, শ্রীলঙ্কা সফরে ভালো করেছিলেন। এবার আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ সামনে রেখে কী ভাবছেন জাতীয় দলের এই ড্যাশিং ওপেনার?

ভাবনা-চিন্তা যে একটাই হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেটা হলো- রান করা। নিয়মিতভাবে রান পেতে থাকলে সব সমালোচনা উড়ে যাবে। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের বললেন, ‘কঠিন সময়ের মধ্যে ভালো করলে নিজের মধ্যে অন্য রকম তৃপ্তি কাজ করবে। ওদের কন্ডিশনে ভালো করার মজা আলাদা থাকবে। চেষ্টা করব ওখানে ভালো কিছু করার আর পেছনের ম্যাচগুলো ভুলে যাওয়ার। ‘

সৌম্যকে নিয়ে এখন যা হচ্ছে, একসময় তা তামিম ইকবালকে নিয়ে হতো। তামিমের প্রতিভার কারণেই তাকে ম্যাচের পর ম্যাচ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আজ তামিম ইকবাল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের প্রাণভোমরা। ঠিক একই কারণে সৌম্যকে সুযোগ দিচ্ছেন কোচ চন্দ্রিকা হাথুরুসিংহে। অন্যদিকে সোশ্যাল সাইটে বয়ে যাচ্ছে সমালোচনার ঝড়। যে ঝড়ে ক্রিকেটীয় কারণের চাইতে ‘সাম্প্রদায়িক আক্রমণ’ ই বেশি করা হচ্ছে সৌম্যকে। লেখা দেখলেই বোঝা যায় এই সমালোচকরা কতটা ‘রুচিবান’!

তবে এসব স্পর্শ করছে না জাতীয় দলের ওপেনারকে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে টাইগাররা। তার আগে চলছে ‘স্বেচ্ছা অনুশীলন’ পর্ব। সৌম্য সরকার নিজেকে ফিরে পাওয়ার তাগিদ থেকেই ‘স্বেচ্ছা অনুশীলন’ করছেন। সোশ্যাল সাইটে অতটা ঘাটাঘাটিও করেন না ইদানিং। এই সুপার স্টাইলিস্ট ব্যাটসম্যানের সব চিন্তা জুড়ে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেকে ফিরে পাওয়া।

সৌম্যর ভাষায়, ‘চেষ্টা করি এই সময়ে ফেসবুক বা এসব মাধ্যমে কম যাওয়ার। এ সময় ইতিবাচক চিন্তা করি। যেন মনোবল হারিয়ে না ফেলি, শক্তভাবে আবার ফিরে আসতে পারি। ভালো করলে সবাই বাহাবা দেবে। খারাপ করলে পেছনে কথা বলবে। কথা বলার অধিকার সবারই আছে। তাদের থামানোর একটাই উপায়, আমাকে রান করতে হবে। ‘

বাংলাদেশ সময়: ১৭২৫ ঘণ্টা, ১৩ সেপ্টেম্বর  ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস