মাইকেলের আঘাতে ধ্বংসস্তুপে পরিণত ফ্লোরিডা

ভয়াবহ হ্যারিকেন মাইকেলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। রাজ্যটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছয় জন প্রাণ হারিয়েছেন এই হ্যারিকেনের আঘাতে। সবকিছু ভেঙেচুরে একেবারে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে ফ্লোরিডার মেক্সিকো বিচসহ বেশ কয়েকটি উপকূলীয় এলকা।

ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট বলেছেন, হ্যারিকেন মাইকেল ফ্লোরিডার উপকলীয় এলাকায় অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করেছে। বহু পরিবার তাদের সবকিছু হারিয়েছে, তাদের জীবন চিরকালের জন্য পরিবর্তিত হয়ে গেছে।’

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের, সেখানে ঘরবাড়ি তার মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুতের খুটিগুলো রাস্তার উপর হেলে পড়েছে।

১৫৫ মাইল বেগের ঝড়ো হাওয়াসহ গত বুধবার হ্যারিকেন মাইকেল আঘাত হানে।

এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় দুর্বল হয়ে যায়। এতে কমপক্ষে ছয় জন মারা যায় যাদের অধিকাংশই ফ্লোরিডার বাসিন্দা।

ফ্লোরিডার তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষকে আশ্রয় শিবিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তা মনে করছেন তাদের অনেকেই এই নির্দেশ উপেক্ষা করেছিল।

গভর্নর স্কট জানান, বুধবার রাতভর ১০টি অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। এসব অভিযানে কমপক্ষে ২৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় মেক্সিকো বিচ শহরের পাশে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল উপকূলে আঘাত হানে মাইকেল। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমিতে আঘাত হানা সবেচেয়ে শক্তিশালী ঝড় ছিল এ মাইকেল।

পাঁচ মাত্রার সাফির-সিম্পসন স্কেলে এর মাত্রা ছিল চার এবং নয় ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস যা ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়। সিএনএন-এর হেলিকপ্টার ফুটেজে দেখা যায়, মেক্সিকো বিচে সমুদ্রের কাছাকাছি জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সংবাদ সংস্থা এপি জানায়, ঐ রাতে ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়। ২৮৫ জন সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল।

ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান ব্রক লং বলেন, মেক্সিকো বিচের সবকিছু একেবারে মাটির সাথে মিশে গেছে। কোন কিছু আর অবশিষ্ট নেই।

মেক্সিকো বিচের উত্তর-পশ্চিমের এলাকার পানামা সিটিতে গাছগুলো ভেঙে পড়েছে, দালানগুলো হেলে পড়েছে, নৌকা ও বৈদ্যুতিক তারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

দুই হাজার ৩০০ মানুষের বাস অ্যাপালাকিকোলাও এর দ্বারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। এই এলাকার মেয়র জানান, রাস্তায় পড়ে থাকা তারগুলোর কারণে শহরে ঢোকা যাচ্ছে না।

ধ্বংসাবশেষ ও বন্যার পানির কারণেও আক্রান্ত এলাকায় পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে।

বৈদ্যুতিক তারগুলো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের বিপদ কাটিয়ে ওঠে যতক্ষণ না কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিবেন যে এলাকাটি নিরাপদ, ততক্ষণ বাড়িঘরে না ফিরতে এলাকার বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর স্কট। বিবিসি জানায়, মেক্সিকো বিচ এলাকা স্থবির হয়ে পড়েছে। কোন বাতাস নেই। রাস্তায় কোন মানুষ নেই। শুধু সূর্যের প্রখর তাপ আর সব জায়গায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। চারদিক থেকে শুধু বেতারের ক্ষীণ আওয়াজ আসছে। এখনও সতর্ক সংকেত বেজেই যাচ্ছে।

বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বসে থাকা এক নারী জানান, এই বাড়িটি ছিল অবসর জীবনের স্বপ্ন। গত চার বছরে তিনি এটি গড়ে তুলেছিলেন। এই বাড়ি আর ফিরে পাবেন না বলতে বলতে তার চোখ ভিজে যায়।