খনিজ সম্পদের আধার লালম‌নিরহাট

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না

প্রচুর খনিজ সম্পদ ও ইউরেনিয়ামের আধার লালমনিরহাট। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এখানে খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলেও সেই খনিজ সম্পদ উত্তোলনের কাজ এখনো ঝুলে রয়েছে। জমা ফাইলগুলো লালফিতায় বন্দি হয়ে সুসজ্জিত বয়েছে অফিস আলমারিতে। বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য।

জানা গেছে, উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী ছোট একটি জেলার নাম লালমনিরহাট। ৫টি উপজেলা ২টি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়ন নিয়ে জেলাটি গঠিত। ২০০৩ সালে এ জেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে প্রচুর প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ ও ৬ ফুট মাটির নিচে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ পারমানবিক চুল্লি তৈরির ইউরেনিয়াম (নিকেল আকরিক) রয়েছে। এই সব পদার্থের চাঞ্চল্যকর তথ্যসন্ধান জানান তৎকালীন রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ড. একেএম আলী হাসান তালুকদার।

গবেষকের তথ্যমতে, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম বুড়িমারী স্থলবন্দরের দহগ্রাম ধরলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলসহ উপজেলার বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে প্রচুর নুড়িপাথরেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব নুড়িপাথর উন্নতমানের। যা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। আবার পাথরের তলদেশে রয়েছে সিলিকা নামক এক প্রকার বালি। যা দিয়ে উন্নতমানের কাপ, প্লেটসহ বিভিন্ন বাসনপত্র তৈরির কাজের অন্যতম উপাদান হতে পারে।

২০০৩ সালে রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক লালমনিরহাট জেলাজুড়ে প্রাপ্ত আকরিক বিষয় নিয়ে অনেক গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হন। পরে তিনি জেলা প্রশাসক এর নিকট লিখিত রিপোর্ট দাখিল করেন। জেলা প্রশাসককে দেয়া তথ্যমতে, জেলা সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন থেকে সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তীর্ন এলাকার ৬ ফুট মাটির নিচে প্রচুর পরিমান নিকেল আকরিক (ইউরেনিয়াম) রয়েছে।

এছাড়াও ড. আলী হাসান তালুকদার জেলা সদরের মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের মহেন্দ্রনগর, মাষানকুড়া এবং হারাটী ইউনিয়নের বেড়পাঙ্গা ও আমবাড়িসহ ২০ বর্গমাইল এলাকার মধ্যে বোরিং করতে আগ্রহী হয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নিকট মাত্র ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জেলা প্রশাসক উক্ত বরাদ্দ না দেয়ার বিপরীতে সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়কে “লালমনিরহাটে নিকেল আকরিকের সন্ধান’ প্রসঙ্গে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি লিখেন। যার স্মারক সাধাঃ ১-৩৫১/২০০৩/১৫৯১, তাং ২১/১২/২০০৩। কিন্তু উক্ত মন্ত্রনালয়ে আজও লাল ফিতায় ফাইলটি বন্দি হয়ে আছে। ফলে খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও পরীক্ষার জন্য বোরিং করার আগ্রহ ভাটা পড়ে যায়।

ড. তালুকদারের মতে, লালমনিরহাটের নিকেল আকরিক (ইউরেনিয়াম ) উত্তোলন করতে পারলে এটি হবে বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট মানের খনিজ সম্পদ। যার অবস্থান হবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম। এদিকে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে লালমনিরহাটে নিকেল আকরিক (ইউরেনিয়াম) আছে কি না এ বিষয় নিশ্চিত হতে চীনা প্রকৌশলীদের চিহ্নিত স্থান পরিদর্শনের আমন্ত্রন জানালে দু’সদস্যের একটি চীনা প্রকৌশলী দল লালমনিরহাট সফরে আসেন। তারা চিহ্নিত স্থান পরিদর্শন ও গবেষণা করে দেখে যে, এখানে প্রচুর পরিমাণ নিকেল আকরিক (ইউরেনিয়াম) আছে। এমনকি তারা আরও গবেষণার জন্য চিহ্নিত স্থানের বালি নিয়ে যান। সরকারিভাবে এসব খনিজ সম্পদ উত্তালন করা হলে সরকারের একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে অভিজ্ঞমহল ধারণা করছেন।

অভিজ্ঞমহল আরো বলেন, পাটগ্রাম উপজেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০/১৫০টি ট্রাক এখান থেকে উন্নতমানের নুড়িপাথর ও সিলিকা বালি দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থের বিনিময় সরবরাহ করছেন। যা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বে-আইনিভাবে বোমা শ্যালো মেশিন দিয়ে উত্তোলন করে রাতারাতি অঢেল টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী সু-দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০৫ ঘণ্টা, ২৬ আগস্ট ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি