গাজীপুরে গার্মেন্ট শ্রমিককে ধর্ষণ, আটক ৫জন

গাজীপুরে গার্মেন্ট শ্রমিককে ধর্ষণ, আটক ৫জন

গাজীপুরের কাশিমপুরের পানিশাইলে এক গার্মেন্ট শ্রমিক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ১০ হাজার টাকার জন্য ওই শ্রমিককে জিম্মি করে রাখা হয়। বিকাশে টাকা বুঝে নেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয় হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে গত রবিবার রাতে দক্ষিণ পানিশাইলের আরকে টেক্সটাইলের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন এলাকায়।

গতকাল সোমবার এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশ ধর্ষকসহ জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে। ধর্ষণের ঘটনায় ওই শ্রমিকের এক সহকর্মীও জড়িত। গত মঙ্গলবার পানিশাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটল।

এতে নির্যাতিতার মামা জানান, কয়েক মাস আগে তার ভাগ্নির বিয়ে হয়েছে। দু’মাস আগে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার মদন থেকে চাকরির সন্ধানে গাজীপুরের কাশিমপুরের দক্ষিণ পানিশাইলে তার ভাড়া বাসায় এসে ওঠেন মেয়েটি। তার বাসায় থেকেই স্থানীয় নর্দাণ গার্মেন্টে সুইং অপারেটর পদে চাকরি নেন। কয়েকদিন আগে এক পুরুষ সহকর্মীকে ভাড়া বাসা খুঁজে দিতে অনুরোধ করেন তার ভাগ্নি। রবিবার গার্মেন্টে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ভাগ্নি বাসাতেই ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসা খুঁজে দেয়ার কথা বলে ভাগ্নিকে ওই সহকর্মী নিজের বোনের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কথাবার্তা বলে অযথা সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। বাসায় ফেরার তাগাদা দিলে সন্ধ্যার দিকে ওই সহকর্মী মেয়েটিকে নিয়ে তার (মামার) বাসার উদ্দেশে রওনা দেয়।

তবে সোজা পথে না গিয়ে ঘুরিয়ে তাকে নির্জন পথে নিয়ে যেতে থাকে সহকর্মী। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আরকে টেক্সটাইলের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনের কাছে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছলে ৪ যুবক তাদের গতিরোধ করে। তাদের মধ্যে এক যুবক ভাগ্নিকে টেনে হিঁচড়ে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে জোরপূবর্ক ধর্ষণ করে। সহকর্মীসহ অন্য ৪ জন মোবাইল ফোন দিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণ শেষে সহকর্মীসহ বাকিরা ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। দিতে না চাইলে এবং পরে দেয়ার কথা বললেও তারা তার ভাগ্নিকে জিম্মি করে রাখে। বাধ্য হয়ে ভাগ্নি টাকার জন্য তার বাবাকে ফোন দেয়। ধর্ষক ও সহযোগীদের দেয়া বিকাশ নম্বরে চাহিদামাফিক টাকা দিলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্যাতিতা শ্রমিককে ছেড়ে দেয়া হয়। ছাড়ার আগে এ ঘটনা প্রকাশ করা হলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে আবারও শাসায় তারা। পরে বাসায় ফিরে মেয়েটি স্বজনদের ঘটনা খুলে বলেন। গতকাল সোমবার এ ঘটনায় বাদী হয়ে দুপুরে কাশিমপুর থানায় মামলা করেন নির্যাতিতা।

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সময় যুবকদের কথাবার্তায় মেয়েটি ধর্ষকের নাম শুনেছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে ধর্ষকসহ ৫ আসামিকেই সোমবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়েছে।