আদর্শ ও নেতৃত্বের আরেক নাম শেখ হাসিনা

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এ ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সরকারের কেন্দ্রবিন্দুতে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বময় কার্যনির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হন। প্রাচীনকালে রাজা ছিলেন দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তখন রাজাদের দেবতার সঙ্গে তুলনা করা হতো। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ‘মহতি দেবরূপেণ হি এষা নররূপেণ তিষ্ঠতি’। অর্থাৎ রাজা হচ্ছেন নররূপে দেবতা। কেন রাজাকে দেবতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে? রাজার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেই তাকে দেবতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, রাজা অবশ্যই ১০টি কামজ ব্যসন ও ৮টি ক্রোধজ ব্যসনমুক্ত হবেন। ব্যসন শব্দের অর্থ দোষ বা আসক্তি। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বর্তমানকালের শাসক অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনেকটা সীমিত। তবুও সরকারের দায়ভার তাদের ওপরই পড়ে। কারণ তারা দলের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হয় এবং প্রত্যেক দলের একটি আদর্শ থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন প্রধানত দুটি ধারায় বিভক্ত। একটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ধারা, অন্যটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধারা। প্রথম ধারায় রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দ্বিতীয় ধারায় আছে জামায়াত, বিএনপি এবং ড. কামাল হোসেনের গণফোরামসহ আরো কিছু দলছুট ব্যক্তি। এ দুই ধারায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কী? সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রে নেতার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- ‘ত্যাগী কৃতী কুলীনঃ সুশ্রীকো রূপযৌবনোৎসাহী। দক্ষো’নুরক্তলোকস্তেজোবৈদগ্ধ্যশীলবান্ নেতা।’ অর্থাৎ যিনি ত্যাগী, কর্মকুশল, কুলীন, বুদ্ধিমান, উৎসাহী, অনলস, লোকানুরক্ত এবং তেজ ও বৈদগ্ধ্যসম্পন্ন তিনিই নেতা। কিন্তু আমাদের দেশে কজন রাজনীতিবিদ এরূপ গুণের অধিকারী সে প্রশ্ন করা যেতেই পারে।

মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, মাস্টার দা সূর্যসেন, সুভাষ চন্দ্র বসু, এ, কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ রাজনীতিবিদ এ ধরনের গুণের অধিকারী ছিলেন। তারা তাদের জীবন-যৌবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর শোণিত ধারা বহমান। তাই তার মধ্যেও আমরা এ ধরনের গুণাবলি প্রত্যক্ষ করি। তাঁর নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ‘উন্নয়ন মডেল’। সামাজিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক, অবকাঠামো প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বল্প সময়ে অভূত উন্নয়ন সাধন করেছে। এ ক্ষেত্রে ‘আই সি এল ডি এস’ কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ- উন্নয়নের এক দশক’ প্রতিবেদনটি দ্রষ্টব্য। দেশের উন্নয়ন বলতে স্বল্প মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি উভয়কেই বোঝায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার পদ্মা সেতুসহ যে দশটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নয়নশীল দেশের সামনের সারিতে গিয়ে দাঁড়াবে। এর জন্য প্রয়োজন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। জননেত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে এসব গুণের সমাবেশ লক্ষণীয়। বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন যেন তার মধ্যে ঘুমিয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু যেমন সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন, শেখ হাসিনাও তার জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে প্রায়ই বলতে শুনি ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দেশের মানুষের সেবাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। এজন্য যদি আমাকে জীবন দিতে হয়, তাও দেবার জন্য আমি প্রস্তুত।’

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তিনি ভীত হননি। ইদানীং তার বক্তব্য শুনে আমরা ভোটার হিসেবে অভিভূত হই। তিনি বিনীতভাবে জনগণের কাছে ভোট চাচ্ছেন। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অতীতের সব তিক্ততা ভুলে গিয়ে সব দলের সঙ্গে সংলাপ করেছেন এবং তাদের নির্বাচনে নিয়ে এসেছেন। আমাদের দেশে অনেক নেতা-নেত্রী আছেন যারা অনেক কিছু পেয়েও তুষ্ট হন না। তাদের অঢেল সম্পদের প্রয়োজন। এজন্য তারা দুর্নীতিতে ডুবে যান। অনেকে আবার মুখে আদর্শের কথা বলেন কিন্তু সামান্য ব্যক্তি স্বার্থে দল বদল করতেও লজ্জিত হন না। যেমন ড. কামাল হোসেন সাহেব। বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু কি কারণে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গঠন করেছেন, তা দেশবাসীর কাছে আজও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়েছেন, তা নিয়ে দ্বিধা নেই। যে-কারণে জামায়াত-বিএনপি ধানের শীষের হাল ধরতে পেরেছেন। এ দ্বারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জলাঞ্জলি দিলেন। আর এক সময়ের সমাজতন্ত্রের প্রবক্তাদের ডিগবাজি দেখলে বলতে ইচ্ছে হয়, ‘সেলুকাস কী বিচিত্র এদেশ’! কোথায় গেল এঁদের রাজনৈতিক আদর্শ ও মেহনতি মানুষের কথা? আসলে চাওয়া-পাওয়াই যাদের মুখ্য, তারা জনগণকে কী দেবে? তারা নেতা হওয়ার নৈতিক আদর্শ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা তার জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সারা বিশ্ব আজ তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যদি তিনি পুনরায় সরকার গঠন করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি উন্নতির শিখরে পৌঁছবে, এগিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন তথা ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠায় বহুদূর।

ড. জুয়েলী বিশ্বাসঃ শিক্ষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়