‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, আর সহ্য পারছি না’

‘আমার এভাবে সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে আর ভালো লাগে না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি আর সহ্য পারছি না, আমি সুস্থ্য জীবন ফিরে পেতে চাই। ফিরে যেতে চাই হাসিখুশি জীবনে। আমি স্কুলে যেতে চাই, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চাই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মনের এভাবেই আহাজারি করছিল মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত সঞ্চিতা সরকার (১১)। সে উপজেলা সদরের আদিবাসী পাড়ার হতদরিদ্র সঞ্জিত সরকার ও অলোকা সরকারের মেয়ে।

সঞ্চিতার পরিবার জানায়, ৪ বছর আগে সঞ্চিতা টায়ফয়েডে আক্রান্ত হয়। অভাবের সংসারে ভালো চিকিৎসা করাতে না পারলেও প্রাথমিক চিকিৎসায় একটু ভালো হলেই স্কুলে যাতায়াতসহ বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে থাকে সে। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই সঞ্চিতার শরীর ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে শুরু করে।

দিনকে দিন অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় বুধবার রাতে সঞ্চিতাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অভাবের সংসারে যাদের খাবার জোটে না ঠিকমত, তারা কিভাবে ঢাকায় নিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করাবেন তা ভেবেই মুর্ছা যাচ্ছেন সঞ্চিতার মা অলোকা সরকার।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মকছেদুল মোমিন বলেন, উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সঞ্চিতার সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তবে ঢাকা শিশু হাসপাতালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তার চিকিৎসা করালে হয়তো সে সুস্থ্য হতে পারে, তবে তা ব্যয়বহুল হবে।

কিন্তু হতদরিদ্র আদিবাসী ভ্যানচালক বাবার পক্ষে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। সঞ্জিত সরকার বলেন, এ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করেছি। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেছি, খেয়ে না খেয়ে মেয়ের চিকিৎসা করেছি। এখন ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর সমার্থ আমার নেই।

অলোকা সরকার বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই মেয়েটার চিকিৎসা করাতে পারছি না। চিকিৎসার অভাবে আমার মেয়েটা মারা যাচ্ছে, আর মা হয়েও কিছু করতে পারছি না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এ সময় তিনি বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশ সময়ঃ ১৮০৫ ঘণ্টা, ১৩ জুলাই, ২০১৮
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পিএস