‘আমিও তো পরাজিত হয়েছিলাম, অভিযোগ তো করিনি’

জনগণের রায় মেনে নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনার নতুন মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। আজ বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নতুন মেয়র। এর আগে, সকাল থেকেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাসভবনে আসে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তাদের শুভেচ্ছার জবাবে তিনি আরও বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে তার দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস দেন নবনির্বাচিত নগরপিতা।

মঙ্গলবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। স্থগিত তিন কেন্দ্রের ভোট ছাড়াই তিনি বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর চেয়ে প্রায় ৭০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন।

২৮৬ কেন্দ্রের (তিনটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত) ফলাফলে দেখা গেছে, তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২৯ ভোট। অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীকে নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট।

এবার খুলনা সিটি নির্বাচনে পাঁচ মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রচারের শুরু থেকেই তাদের বাক্যযুদ্ধে ভোটের মাঠ ছিল উত্তপ্ত। ভোট শেষে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জু অভিযোগ করেন এ নির্বাচনে প্রায় দেড়শ কেন্দ্রে ভোট কারচুপি হয়েছে। তাই এসব কেন্দ্রের ফল বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান তিনি।

ভোটে বিএনপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত মেয়র, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তালুকদার খালেক বলেন, ‘নির্বাচনে যদি বিএনপি জয়লাভ করতো তাহলে নির্বাচন ঠিক হতো। এখন পরাজিত হয়ে তা মেনে নিতে না পেরে তারা আবোল-তাবোল বকতে শুরু করেছে। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমিও তো পরাজিত হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কথা কোনও অভিযোগ তো করিনি।’

মাদকমুক্ত খুলনা মহানগর উপহার দেয়ার অঙ্গীকার করে খুলনার নগর পিতা বলেন, ‘আমি খুলনা মহানগরকে মাদকমুক্ত করবো। মাদকের সঙ্গে আমার দলেরও কেউ যদি জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবো।’

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর একশ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি তিনটি কেন্দ্রে কিছু বিশৃঙ্খলা হয়েছে। কিন্তু নজরুল ইসলাম মঞ্জু শতাধিক কেন্দ্রে পুন:ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সেটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক দাবি। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি এমন দাবি করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- তালুকদার খালেকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের নগর সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল, দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন ও অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়ঃ ১৭৫০ ঘণ্টা, ১৬ মে, ২০১৮