মুনিয়ার সঙ্গে আনভীরের কল রেকর্ডের ফরেনসিক চেয়ে নোটিশ

সুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর ও কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া

রাজধানীর গুলশানের কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যু সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনার অন্যতম। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর একমাত্র আসামী। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী এই শিল্পপতির সঙ্গে কলেজছাত্রী মুনিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ড ফরেনসিক পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্রসচিব বরাবর এই নোটিশটি পাঠানো হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও মোসারাত জাহান মুনিয়ার মধ্যে কথোপকথনের একটি রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। ওই কল রেকর্ডে সায়েম সোবহান যেসব শব্দ ভিকটিম মুনিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন, তা যেকোনো নারীর জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। উল্লিখিত কল রেকর্ড ফরেনসিক পর্যালোচনার জন্য এবং যদি ফরেনসিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই ‘অশ্লীল শব্দ’ প্রয়োগকারী ব্যক্তি সায়েম সোবহান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”

এই আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান। স্বরাষ্ট্রসচিব বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ওই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ইয়াদিয়া জামান বলেন, “ভাইরাল হওয়া ওই কল রেকর্ড ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশের উল্লিখিত বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না দেখা গেলে পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মোসারাতের বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। এ মামলার একমাত্র আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর।

মামলার পরদিন সায়েম সোবহান আনভীরের বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে, ওই আবেদন আদালত সেদিন মঞ্জুর করেন। এর মধ্যে আনভীর ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

গতকাল রোববার (২ মে) মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান একই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা নিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।