বিসিএস ক্যাডারের পদ ছেড়ে গরীবের বিনা পয়সার ডাক্তার!

মেডিকেলে পড়াশোনা শেষ করে ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারি সার্জন পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে মন টেকেনি। মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি।

এই ব্রতকে সামনে রেখে তিনি এখন গরীবের ডাক্তার হয়েছেন। বিনা পয়সায় তিনি গরীব রোগীদের চিকিৎসা দেন। শুধু তাই নয় সমাজের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। সাহসী ও প্রতিবাদী ওই নারীর নাম ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। নারীর প্রতি সহিংসতা, সব ধরনের নিপীড়ন ও বৈষম্য বিলোপের লড়াই করে যাচ্ছেন তিনি।

শ্রমিক ও বস্তিবাসীর কাছে ‘দিদি’ নামে পরিচিত তিনি। আবার কারো কাছে তিনি গরিবের ডাক্তার নামেও পরিচিত। ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর জন্ম বরিশাল নগরীর শ্রী নাথ চ্যাটার্জীলেনের পৈত্রিক বাড়িতে। নগরীতেই তার বেড়ে ওঠা।

তার বাবা আইনজীবী তপন কুমার চক্রবর্ত্তী ছিলেন ৯ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা। মা রিনা চক্রবর্ত্তী গৃহিণী। তিন বোনের মধ্যে ডা. মনীষা সবার ছোট। মনীষা চক্রবর্ত্তীর দাদা বিশিষ্ট আইনজীবী সুধীর কুমার চক্রবর্ত্তীকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় রাজাকার বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে। প্রগতিশীল চেতনায় বেড়ে ওঠা ডা. মনীষার ছোটবেলা কেটেছে ফুপা লেখক ও নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার সান্নিধ্যে।

জানা গেছে, ডা. মনীষা এইচএসসির পর ভর্তি হন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় যুক্ত হন বাসদের রাজনীতিতে। তিনি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বরিশালের সদস্য সচিব। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস পাস করেন।

৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে নিয়োগ পেলেও সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি। নারীর প্রতি সহিংসতা, সব ধরনের নিপীড়ন ও বৈষম্য বিলোপ, নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন ও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বরিশাল সিটি মেয়র নির্বাচনও করেছেন।

সেসময় মেহনতি মানুষ তাদের মাটির ব্যাংক ভেঙে মনীষার হাতে তুলে দেন নির্বাচনের খরচ জোগাতে। তবে টাকা আর শক্তির কাছে তিনি পরাজয় বরণ করলেও মেহনতি মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।

প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে হামলা, মামলা ও কারাভোগও করতে হয়েছে ডা. মনীষাকে। ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত বছর ১৯ এপ্রিল শ্রমিকরা বরিশাল শহরে মিছিল বের করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মনীষাও। সেদিন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ২৬ এপ্রিল জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।

রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে লাঠিপেটা, মারধর, হেনস্তারও শিকার হতে হয়েছে বহুবার। তবুও তিনি পিছপা হননি। জনগণের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

ডা. মনীষা বলেন, নারীর স্বপ্ন দেখেন তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবের রূপ দিতে পারে না। নারীদের সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।