মাছ ধরার অসংখ্য অবৈধ ঝোপে সয়লাব মেঘনা

মাছ ধরার অসংখ্য অবৈধ ঝোপে সয়লাব মেঘনা
মেঘনায় মাছ ধরার অবৈধ ঝোপের দৃশ্য - লেটেস্ট বিডি নিউজ

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নদীর আশেপাশে অবৈধ প্রায় পাঁচ শতাধিক মাছের ঝোপে রয়েছে। আর এই মাছের ঝোপের কারণে নদী পথে চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অবৈধভাবে মাছের ঝোপ থেকে কচুরিপানা আসার কারণে হাজার হাজার গ্রামবাসী ও জনগণ জিম্মি হয়ে আছে।

মেঘনায় মাছ ধরার অবৈধ ঝোপের দৃশ্য – লেটেস্ট বিডি নিউজ

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের তুলাতুলি বাজারের নদীতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্ব জায়গা জুড়ে ঝোপের কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে আছে নদী। উপজেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের সবকটি গ্রামের মানুষকে নৌকা দিয়েই বারোমাস চলাচল করতে হয়।

তুলাতুলি বাজার থেকে উপজেলার উত্তর অঞ্চলের মানুষ কিংবা নৌকাযোগে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাটবাজারে যাওয়ার এ নদীই একমাত্র পথ। কিন্তু এলাকার কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী লোকজন নদীগুলোতে অপরিকল্পিত এবং বেআইনিভাবে নদীর মাঝখানে ও নদীর বেশিরভাগ অংশ জুড়ে মাছের ঝোপ দিয়ে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। ফলে নদী হারিয়েছে তার স্বাভাবিক স্রোত, জমে যাচ্ছে পলিমাটি ব্যাহত হচ্ছে সব যোগাযোগ।

৪০০ থেকে ৫০০ ঝোপের মধ্যে তুলাতুলি নদীর ঘাটে বরিকান্দি, রামপ্রসাদের চর, মৈশার চর, চালিভাংগা, সোনাকান্দা, সাতানি বাজার থেকে সোনাকান্দার রামপুর, হরিপুর, লুটেরচর, লক্ষ্মীপুর, শেখেরগাঁও এলাকার নদীগুলো শত শত ঝোপ নদীর মাঝখানে হওয়ার কারণে নদীতে চলাচল সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

চরম দুঃখ-দুর্দশায় আছে এ এলাকার হাজার হাজার কৃষক পরিবার। কারণ তাদের উৎপাদিত ফসল ও মৌসুমী ফসল,ফলমূল, কাঁচামাল এই নদীতে ট্রলার যোগে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ নিয়ে বিক্রি করতে হয়। উপজেলার চারপাশে নদী থাকার কারণে নদীপথে প্রায় ৬ টি ঘাট হতে প্রতিদিন শতশত নৌকা চলে।

উপজেলার দক্ষিণ সীমান্ত গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আলিপুর ঘাট থেকে দাউদকান্দি চলাচল করে প্রায় দুইশত থেকে তিনশত যাত্রীবাহী ট্রলার। বর্তমানে এ পথগুলো বন্ধ প্রায়। চন্দনপুর তুলাতুলি ঘাট বাজার, আনন্দের বাজারসহ প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষের এ নৌপথে চলাচল। রামপুর বাজার থেকে মেঘনাঘাট অসংখ্য ছোট ছোট লঞ্চ চলাচল করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রবীর কুমার রায় বলেন, সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুব শিগগিরই সমাধানে যাব।

মেঘনা উপজেলা মৎস্য অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, মেঘনার চারদিকে অনেক আগে থেকেই অবৈধভাবে মাছ ধরার ঝোপগুলো দেওয়া আছে, আমি এর সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।