“আমগো ছাইরা দেন, নাইলে খাওন দেন”

public

ইতমধ্যে করোনার তিনটি উপাধি পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ, করোনা রেডজোন, করোনা ক্লাস্টার ও করোনা এপি সেন্টার। পুরো জেলা এখন লকডাউন। জীবন বাঁচাতে মরিয়া সাধারণ মানুষ। প্রায় রাতের আঁধারে ট্রাক ভাড়া করে পালানোর টেষ্টা করেছিল নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। কিন্তু ফতুল্লা পুলিশ সেই শ্রমিকদের আটকে দিয়ে যানবাহন জব্দ করেছে।

এদিকে আটককৃতরা পুলিশের কাছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, “এহেনে আমগেহা কাছে ট্যাকা নাই, খাওন নাই। আমরা গ্রামে গেলে খ্যাতের সবজি ধান খাইয়া বাঁচতে পারমু। আমগো ছাইরা দেন, নাইলে খাওন দেন”।

মঙ্গলবার রাতের এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষকে আটক করে নিজ বাড়িতে পৌছে দিয়েছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে এলাকার ছেড়ে পালনোর জন্য ভাড়াকৃত তিনটি যানবাহন।

এ বিষয়ে মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বাল্কহেড যোগে নদীপথে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে ফতুল্লার বুড়িগঙ্গা নদীতে ধাওয়া করে প্রায় ৭২ যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে যাত্রীরা যেখান থেকে এতে উঠেছিল, সেখানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং ট্রলার ও বাল্কহেড আটক করা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, ওই রাতেই ফতুল্লার টাগারপার থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রী ভর্তি তিনটি পিকআপ আটক করা হয়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল।

তিনি আরও জানান, এ রাতেই মাউরাপট্টি থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা করা যাত্রী ভর্তি চারটি পিকআপ আটক করা হয়েছে। এসব পিকআপে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী ছিল।

ওসি জানান, ফতুল্লার পঞ্চবটী থেকে কিশোরাগঞ্জ যাওয়ার পথে সাইনবোর্ড এলাকায় প্রায় ৬০ যাত্রীসহ একটি ট্রাক আটক করা হয়। সব যাত্রী যেখান থেকে উঠেছিল, সেখানে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি গাড়িই থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিক সুরাইয়া বলেন, “হয় খাওন দেন, নাইলে যাইতে দেন, কি করমু, কাজকর্ম বন্ধ”।

পুলিশ জানায়, আটককৃতরা বেশিরভাগই রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা।