কুমারগাঁওয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, ২০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

power station

আজ সিলেটের উপকন্ঠ কুমারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ উপ কেন্দ্রের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) গ্রিড উপ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রিড উপ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ৭০ কোটি টাকার ২৫/৪১ এমবিএ দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। ট্রান্সফরমারগুলোর বাইরের অংশ পুড়লেও ভেতরে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ৩৩ কেভি ফিডার ও বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গ্রিড উপ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে পুরো সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সিলেট নগরী, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, ছাতক ও সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎহীন রয়েছে। ফলে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক গ্রাহক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সিলেটর প্রধান প্রকৌশলী মোকাম্মেল হোসেন বলেন, তাদের প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয়ে প্রায় ৩ লক্ষাধিক গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন। বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। গ্রিড উপ কেন্দ্রের লোকজনও অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, কিভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এ বিষয়ে কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাকিম বিল্লাহকে ফোন দিলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাব স্টেশনে অনেকগুলো প্যানেল আছে। কোনোটি থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজি এমদাদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে পিজিসিবির সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। পাশাপাশি ঢাকা থেকেও টিম সিলেটে আসছে। এছাড়া জনসাধারণ যাতে বিক্ষুব্ধ না হয়ে মাঠে নামেন, এজন্য মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সিলেট নগরের উপকন্ঠ কুমারগাঁওয়ে ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিট একঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুতের গ্রিডে ট্রান্সফরমারে আগুন লাগে। এতে করে সাব স্টেশনের আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিট ও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের প্রায় একঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন মহানগর এলাকার লোকজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও হাসপাতালে রোগীরাও পড়েছেন বিপাকে। সেসঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিলেট নগরের মীরের ময়দান এলাকার সুমন আহমদ বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছি। কখন বিদ্যুৎ আসবে, সে আশায় প্রহর গুনছি,বলেন তিনি।

নগেরের জিন্দাবাজার এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসিয়াল কাজে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার বন্ধ। মোবাইল ফোনেরও চার্জ চলে যাচ্ছে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পাঠানো যাচ্ছে না।